ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেরানীগঞ্জের বাবুবাজারে জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা আগুন সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট। আগুন লাগা ভবনে আটকেপড়া ৪৫ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। তিনি জানান, ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবন নিয়ে গঠিত; কিন্তু এগুলোর বেজমেন্ট মাত্র একটি। এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন। ওপরে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুটি। বেশিরভাগ দোকানের তালা ও সাটার কেটে কেটে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।

শাহজাহান শিকদার আরও বলেন, ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার, একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ এখন মোট ২১টি ইউনিট আগুনে কাজ করছে। ভবনে আটকে পড়া আরও তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মোট উদ্ধার ৪৫ জন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আশপাশের ভবনগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিক্সড ভবন। এখানে অসংখ্য দোকান রয়েছে, সবগুলো সাটার দিয়ে আটকানো। ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত, দোতলা ও তিনতলায় আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এ কারণে আমাদের আগুন নেভানোর কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এখানে ঝুট গোডাউনসহ অন্যান্য মালামাল রয়েছে। ভবনের বেজমেন্টেও দোকানপাট রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, ভবনের দোকানের সাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাজ করতে হচ্ছে। আগুনের সোর্সের কাছে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চারদিক থেকে অ্যাটাক করছি, যাতে আগুন অন্যান্য ভবনে না ছড়িয়ে যায়।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখনই সূত্রপাত বলা যাবে না, আগে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবো, তারপর সূত্রপাত বলা যাবে।

ভবনে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না প্রশ্ন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, এখানে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অযথা কেউ প্যানিক ক্রিয়েট না করি। এখানে যে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে তা ব্যাক ড্রাফট। ব্যাক ড্রাফট হলো একটা জায়গায় আগুন অথবা ধোঁয়া আটকে থাকলে খোলার পর যে শব্দ হয় সেটির শব্দ হয়েছে।

এর আগে শনিবার ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

কেরানীগঞ্জে বহুতল ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

কেরানীগঞ্জের বাবুবাজারে জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা আগুন সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট। আগুন লাগা ভবনে আটকেপড়া ৪৫ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। তিনি জানান, ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবন নিয়ে গঠিত; কিন্তু এগুলোর বেজমেন্ট মাত্র একটি। এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন। ওপরে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুটি। বেশিরভাগ দোকানের তালা ও সাটার কেটে কেটে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।

শাহজাহান শিকদার আরও বলেন, ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার, একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ এখন মোট ২১টি ইউনিট আগুনে কাজ করছে। ভবনে আটকে পড়া আরও তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মোট উদ্ধার ৪৫ জন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আশপাশের ভবনগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিক্সড ভবন। এখানে অসংখ্য দোকান রয়েছে, সবগুলো সাটার দিয়ে আটকানো। ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত, দোতলা ও তিনতলায় আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এ কারণে আমাদের আগুন নেভানোর কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এখানে ঝুট গোডাউনসহ অন্যান্য মালামাল রয়েছে। ভবনের বেজমেন্টেও দোকানপাট রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, ভবনের দোকানের সাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাজ করতে হচ্ছে। আগুনের সোর্সের কাছে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চারদিক থেকে অ্যাটাক করছি, যাতে আগুন অন্যান্য ভবনে না ছড়িয়ে যায়।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখনই সূত্রপাত বলা যাবে না, আগে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবো, তারপর সূত্রপাত বলা যাবে।

ভবনে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না প্রশ্ন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, এখানে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অযথা কেউ প্যানিক ক্রিয়েট না করি। এখানে যে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে তা ব্যাক ড্রাফট। ব্যাক ড্রাফট হলো একটা জায়গায় আগুন অথবা ধোঁয়া আটকে থাকলে খোলার পর যে শব্দ হয় সেটির শব্দ হয়েছে।

এর আগে শনিবার ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।