ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পাখি তো আকাশেই সুন্দর রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

একই পরিবারে দুই প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মানবেতর জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মো. আশরাফ আলী (৭৬) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. আলেয়া বেগম (৬০)। তাঁদের দুই ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. আক্কাস আলী (৩২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, সবসময় শুয়ে থাকেন বিছানায়।

পরিবারের আয়ের উৎস বলতে রয়েছে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা এবং আলেয়া বেগমের অন্যের বাড়িতে কাজ করার সামান্য আয়। কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন সংসার। কখনো কখনো মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই মা।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে অসহায় দম্পতির এখন একমাত্র আশ্রয়—আল্লাহর দয়া আর মানুষের সহানুভূতি।

শনিবার (২ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের দেওয়া জমিতে টিন দিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরের এক পাশে বিছানায় শুয়ে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে। পাশে মা বসে সেবা করছেন, খাবার দিচ্ছেন চামচে করে। বৃদ্ধ আশরাফ আলী এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন।

মোছা. আলেয়া বেগম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ছেলে আর বৃদ্ধ স্বামী নিয়ে বাঁচা খুব কষ্টকর। যতটুকু পারি কাজ করি, না পারলে মানুষের কাছে হাত পাতি। আল্লাহর উপর ভরসা করে চলছি।’

প্রতিবন্ধী ছেলেদের বড় ভাই আলম আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। তবুও যতটুকু পারি, চেষ্টা করি বাবা-মা আর ভাইদের সাহায্য করতে। কিন্তু ওদের চিকিৎসা, খাবার, ওষুধ—সব কিছু চালানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না। সরকারি সহায়তা পেলে উপকার হতো।’

এ বিষয়ে গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পেলে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হতে পারে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ভাই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে পরিবারটির সার্বিক বিষয় ইউএনও মহোদয় ও ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

একই পরিবারে দুই প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মো. আশরাফ আলী (৭৬) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. আলেয়া বেগম (৬০)। তাঁদের দুই ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. আক্কাস আলী (৩২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, সবসময় শুয়ে থাকেন বিছানায়।

পরিবারের আয়ের উৎস বলতে রয়েছে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা এবং আলেয়া বেগমের অন্যের বাড়িতে কাজ করার সামান্য আয়। কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন সংসার। কখনো কখনো মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই মা।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে অসহায় দম্পতির এখন একমাত্র আশ্রয়—আল্লাহর দয়া আর মানুষের সহানুভূতি।

শনিবার (২ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের দেওয়া জমিতে টিন দিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরের এক পাশে বিছানায় শুয়ে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে। পাশে মা বসে সেবা করছেন, খাবার দিচ্ছেন চামচে করে। বৃদ্ধ আশরাফ আলী এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন।

মোছা. আলেয়া বেগম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ছেলে আর বৃদ্ধ স্বামী নিয়ে বাঁচা খুব কষ্টকর। যতটুকু পারি কাজ করি, না পারলে মানুষের কাছে হাত পাতি। আল্লাহর উপর ভরসা করে চলছি।’

প্রতিবন্ধী ছেলেদের বড় ভাই আলম আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। তবুও যতটুকু পারি, চেষ্টা করি বাবা-মা আর ভাইদের সাহায্য করতে। কিন্তু ওদের চিকিৎসা, খাবার, ওষুধ—সব কিছু চালানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না। সরকারি সহায়তা পেলে উপকার হতো।’

এ বিষয়ে গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পেলে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হতে পারে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ভাই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে পরিবারটির সার্বিক বিষয় ইউএনও মহোদয় ও ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’