ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই পরিবারে দুই প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মানবেতর জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মো. আশরাফ আলী (৭৬) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. আলেয়া বেগম (৬০)। তাঁদের দুই ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. আক্কাস আলী (৩২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, সবসময় শুয়ে থাকেন বিছানায়।

পরিবারের আয়ের উৎস বলতে রয়েছে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা এবং আলেয়া বেগমের অন্যের বাড়িতে কাজ করার সামান্য আয়। কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন সংসার। কখনো কখনো মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই মা।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে অসহায় দম্পতির এখন একমাত্র আশ্রয়—আল্লাহর দয়া আর মানুষের সহানুভূতি।

শনিবার (২ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের দেওয়া জমিতে টিন দিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরের এক পাশে বিছানায় শুয়ে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে। পাশে মা বসে সেবা করছেন, খাবার দিচ্ছেন চামচে করে। বৃদ্ধ আশরাফ আলী এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন।

মোছা. আলেয়া বেগম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ছেলে আর বৃদ্ধ স্বামী নিয়ে বাঁচা খুব কষ্টকর। যতটুকু পারি কাজ করি, না পারলে মানুষের কাছে হাত পাতি। আল্লাহর উপর ভরসা করে চলছি।’

প্রতিবন্ধী ছেলেদের বড় ভাই আলম আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। তবুও যতটুকু পারি, চেষ্টা করি বাবা-মা আর ভাইদের সাহায্য করতে। কিন্তু ওদের চিকিৎসা, খাবার, ওষুধ—সব কিছু চালানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না। সরকারি সহায়তা পেলে উপকার হতো।’

এ বিষয়ে গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পেলে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হতে পারে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ভাই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে পরিবারটির সার্বিক বিষয় ইউএনও মহোদয় ও ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

একই পরিবারে দুই প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া হঠাৎপাড়া গ্রামে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ মো. আশরাফ আলী (৭৬) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. আলেয়া বেগম (৬০)। তাঁদের দুই ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. আক্কাস আলী (৩২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা কেউই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, সবসময় শুয়ে থাকেন বিছানায়।

পরিবারের আয়ের উৎস বলতে রয়েছে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের মাসিক ভাতা এবং আলেয়া বেগমের অন্যের বাড়িতে কাজ করার সামান্য আয়। কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন সংসার। কখনো কখনো মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ছেলেদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই মা।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার ছেলের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বড় ছেলে আলম আলী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ফলে অসহায় দম্পতির এখন একমাত্র আশ্রয়—আল্লাহর দয়া আর মানুষের সহানুভূতি।

শনিবার (২ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যের দেওয়া জমিতে টিন দিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরের এক পাশে বিছানায় শুয়ে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে। পাশে মা বসে সেবা করছেন, খাবার দিচ্ছেন চামচে করে। বৃদ্ধ আশরাফ আলী এক কোণে চুপচাপ বসে আছেন।

মোছা. আলেয়া বেগম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ছেলে আর বৃদ্ধ স্বামী নিয়ে বাঁচা খুব কষ্টকর। যতটুকু পারি কাজ করি, না পারলে মানুষের কাছে হাত পাতি। আল্লাহর উপর ভরসা করে চলছি।’

প্রতিবন্ধী ছেলেদের বড় ভাই আলম আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারি না। তবুও যতটুকু পারি, চেষ্টা করি বাবা-মা আর ভাইদের সাহায্য করতে। কিন্তু ওদের চিকিৎসা, খাবার, ওষুধ—সব কিছু চালানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না। সরকারি সহায়তা পেলে উপকার হতো।’

এ বিষয়ে গোয়ালডিহি ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পেলে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হতে পারে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই প্রতিবন্ধী ভাই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে পরিবারটির সার্বিক বিষয় ইউএনও মহোদয় ও ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’