জুলাইয়ের বীরদের সম্মান, গাইবান্ধায় ২৫২ জনের হাতে ক্রেস্ট
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গাইবান্ধায় ২৫২ জন শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্মৃতির প্রতীক হিসেবে উন্নত জাতের একটি করে আমের চারাও উপহার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল হক, রিয়াদ হাসান প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এ আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা রাজপথে থেকে সংগ্রাম করেছেন, তাদের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহিদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
জুলাই যোদ্ধারা বলেন, ‘আমরা শুধু কোনো ভাতা বা পরিচয়ের জন্য আন্দোলন করিনি। মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। সেই আন্দোলনের মূল চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
আলোচনা সভা শেষে জেলার সাত উপজেলার ২৫২ জন জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট এবং উন্নত জাতের একটি করে আমের চারা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা গ্রহণের সময় অনেক শহিদ পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধার ৩৬শে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার সাত উপজেলার জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।





















