ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সেকমোকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরতের নির্দেশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। পরিদর্শনকালে সরকারি অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে (সেকমো) রোগীর খরচ করা ১ হাজার ৩০ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসককে সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়ার নির্দেশও দেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় কুকুরের কামড়ে আহত শামসুন্নাহার নামে এক রোগীর সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। ওই রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সরকারি ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও তাকে বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন কিনতে বলা হয়। পরে তিনি বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে হাসপাতালে এসে তা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী। প্রথমে অভিযুক্ত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দেন এবং বিকেলে ফেরার পথে সেই আদেশ দেখবেন বলেও জানান।

তবে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রোগীর ভ্যাকসিন কিনতে ব্যয় হওয়া ১ হাজার ৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে পরিশোধের নির্দেশ দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হলে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

এদিকে পরিদর্শনের সময় জরুরি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানের কাছে মন্ত্রী জানতে চান, ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে পাঠানোর বিষয়টি তিনি জানতেন কি না। জবাবে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এ প্রেক্ষিতে তাকে একটি সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘আমরা আগে থেকে জানতাম না যে মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনে আসবেন। আমি সেদিন বগুড়ায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ফিরে আসি এবং মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। রোগী অফিস সময় শেষ হওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলেন। সে কারণে দায়িত্বরত সেকমো তাকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।’

ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ আরও বলেন, ‘ডা. জিল্লুর রহমান ওই দিন ডিউটিতে ছিলেন না। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। ডিউটিতে না থাকলে তার জানার কথাও নয়।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সেকমোকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরতের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। পরিদর্শনকালে সরকারি অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে (সেকমো) রোগীর খরচ করা ১ হাজার ৩০ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসককে সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়ার নির্দেশও দেন।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় কুকুরের কামড়ে আহত শামসুন্নাহার নামে এক রোগীর সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। ওই রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সরকারি ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও তাকে বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন কিনতে বলা হয়। পরে তিনি বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে হাসপাতালে এসে তা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী। প্রথমে অভিযুক্ত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দেন এবং বিকেলে ফেরার পথে সেই আদেশ দেখবেন বলেও জানান।

তবে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রোগীর ভ্যাকসিন কিনতে ব্যয় হওয়া ১ হাজার ৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে পরিশোধের নির্দেশ দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হলে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

এদিকে পরিদর্শনের সময় জরুরি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমানের কাছে মন্ত্রী জানতে চান, ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে পাঠানোর বিষয়টি তিনি জানতেন কি না। জবাবে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এ প্রেক্ষিতে তাকে একটি সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘আমরা আগে থেকে জানতাম না যে মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনে আসবেন। আমি সেদিন বগুড়ায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ফিরে আসি এবং মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। রোগী অফিস সময় শেষ হওয়ার পর হাসপাতালে এসেছিলেন। সে কারণে দায়িত্বরত সেকমো তাকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।’

ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ আরও বলেন, ‘ডা. জিল্লুর রহমান ওই দিন ডিউটিতে ছিলেন না। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। ডিউটিতে না থাকলে তার জানার কথাও নয়।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।