ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

রাশিয়ায় কাজে গিয়ে যুদ্ধে ইউক্রেনে বন্দি সুন্দরগঞ্জের রিমেল

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভালো বেতনের চাকরির স্বপ্নে প্রায় ছয় লাখ টাকা ধারদেনা করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার যুবক রিমেল মিয়া। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর আশায় ২০২৫ সালের মার্চে নির্মাণশ্রমিকের কাজ নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অল্প সময়েই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। কাজ হারিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ে শেষ পর্যন্ত রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার তাকে মৃত ভেবেই দিন কাটাচ্ছিল। সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার জীবিত থাকার খবর প্রকাশ্যে আসে।

রিমেল মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে।

সরেজমিনে রিমেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। অভাব-অনটন যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন রিমেল। তার উপার্জনের আশাতেই ধারদেনা করে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা।

রিমেল মিয়া সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিমেল স্থানীয় শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে আর পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতেই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, ‘আমার পরিবার জানে না আমি কোথায় আছি, আমি বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অন্তত তারা জানতে পারবে আমি এখনো বেঁচে আছি।’

রিমেলের বাবা সৈয়দ আলী স্থানীয় শোভাগঞ্জ বাজারে একটি ছোট পানের দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। তিনি বলেন, ‘ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। রাশিয়া যাওয়ার পর পাঁচ-ছয় মাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর প্রায় ১১ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাইনি। সে কেমন আছে, বেঁচে আছে কি না কিছুই জানতাম না। পত্রিকায় দেখে জানতে পারলাম আমার ছেলে জীবিত আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিমেলের মা রেখা বেগম বলেন, ‘ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে প্রতিদিন আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করেছি। মনে হতো হয়তো আর কোনো দিন আমার ছেলেকে দেখতে পাব না। এখন জানতে পেরেছি সে বেঁচে আছে। আমি শুধু আমার ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সরকার যেন আমার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনে।’

চাচাতো বোন সাবিনা আক্তার বলেন, ‘রিমেল খুব শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে। পরিবারের কষ্ট দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল। এতদিন কোনো খোঁজ না থাকায় আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম সে হয়তো আর বেঁচে নেই। এখন জীবিত থাকার খবর শুনে স্বস্তি পেলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমাদের উদ্বেগ কাটবে না।’

প্রতিবেশী মাহমুদা বেগম বলেন, ‘রিমেল পরিবারের জন্য নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়েছিল। প্রায় এক বছর কোনো খোঁজ না থাকায় পুরো গ্রামই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল। এখন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’

স্থানীয় আলম মিয়া বলেন, ‘রিমেলের ঘটনা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। কাজের আশায় বিদেশে গিয়ে সে যুদ্ধবন্দি হয়েছে। সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনুক। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।’

রিমেল জানান, রাশিয়ায় গিয়ে প্রথমে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মাসে ৭০০ ডলার বেতনে কাজ শুরু করেন। পরে কাজ হারিয়ে বৈধভাবে থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিপত্রটি রুশ ভাষায় হওয়ায় তিনি সেটির কিছুই বুঝতে পারেননি। উচ্চ বেতন ও রাশিয়ার নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় এক মাস একটি বাঙ্কারে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি পরে বিভিন্নভাবে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, আবার কেউ যুদ্ধবন্দি হয়েছেন।

বর্তমানে ইউক্রেনের ডিটেনশন সেন্টারে থাকা রিমেলসহ তিন বাংলাদেশি যুদ্ধবন্দিই বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, রাশিয়ায় তাদের নামে জমা থাকা বেতন ও পাওনা অর্থও যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

রাশিয়ায় কাজে গিয়ে যুদ্ধে ইউক্রেনে বন্দি সুন্দরগঞ্জের রিমেল

আপডেট সময় : ১২:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ভালো বেতনের চাকরির স্বপ্নে প্রায় ছয় লাখ টাকা ধারদেনা করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার যুবক রিমেল মিয়া। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর আশায় ২০২৫ সালের মার্চে নির্মাণশ্রমিকের কাজ নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অল্প সময়েই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। কাজ হারিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ে শেষ পর্যন্ত রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার তাকে মৃত ভেবেই দিন কাটাচ্ছিল। সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার জীবিত থাকার খবর প্রকাশ্যে আসে।

রিমেল মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে।

সরেজমিনে রিমেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। অভাব-অনটন যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন রিমেল। তার উপার্জনের আশাতেই ধারদেনা করে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন বাবা-মা।

রিমেল মিয়া সৈয়দ আলী ও রেখা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রিমেল স্থানীয় শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে আর পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতেই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, ‘আমার পরিবার জানে না আমি কোথায় আছি, আমি বেঁচে আছি নাকি মারা গেছি। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অন্তত তারা জানতে পারবে আমি এখনো বেঁচে আছি।’

রিমেলের বাবা সৈয়দ আলী স্থানীয় শোভাগঞ্জ বাজারে একটি ছোট পানের দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। তিনি বলেন, ‘ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। রাশিয়া যাওয়ার পর পাঁচ-ছয় মাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর প্রায় ১১ মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাইনি। সে কেমন আছে, বেঁচে আছে কি না কিছুই জানতাম না। পত্রিকায় দেখে জানতে পারলাম আমার ছেলে জীবিত আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিমেলের মা রেখা বেগম বলেন, ‘ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে প্রতিদিন আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করেছি। মনে হতো হয়তো আর কোনো দিন আমার ছেলেকে দেখতে পাব না। এখন জানতে পেরেছি সে বেঁচে আছে। আমি শুধু আমার ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সরকার যেন আমার ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনে।’

চাচাতো বোন সাবিনা আক্তার বলেন, ‘রিমেল খুব শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে। পরিবারের কষ্ট দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল। এতদিন কোনো খোঁজ না থাকায় আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম সে হয়তো আর বেঁচে নেই। এখন জীবিত থাকার খবর শুনে স্বস্তি পেলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমাদের উদ্বেগ কাটবে না।’

প্রতিবেশী মাহমুদা বেগম বলেন, ‘রিমেল পরিবারের জন্য নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে গিয়েছিল। প্রায় এক বছর কোনো খোঁজ না থাকায় পুরো গ্রামই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল। এখন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।’

স্থানীয় আলম মিয়া বলেন, ‘রিমেলের ঘটনা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। কাজের আশায় বিদেশে গিয়ে সে যুদ্ধবন্দি হয়েছে। সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনুক। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।’

রিমেল জানান, রাশিয়ায় গিয়ে প্রথমে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মাসে ৭০০ ডলার বেতনে কাজ শুরু করেন। পরে কাজ হারিয়ে বৈধভাবে থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিপত্রটি রুশ ভাষায় হওয়ায় তিনি সেটির কিছুই বুঝতে পারেননি। উচ্চ বেতন ও রাশিয়ার নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাত্র তিন দিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় এক মাস একটি বাঙ্কারে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি পরে বিভিন্নভাবে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, আবার কেউ যুদ্ধবন্দি হয়েছেন।

বর্তমানে ইউক্রেনের ডিটেনশন সেন্টারে থাকা রিমেলসহ তিন বাংলাদেশি যুদ্ধবন্দিই বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন, রাশিয়ায় তাদের নামে জমা থাকা বেতন ও পাওনা অর্থও যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।