গণহত্যার বিচার না করলে সরকার পাঁচ বছর টিকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগরে সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর এগারো দলীয় ঐক্য।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আয়োজিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি বিচারের দাবিতে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায়ও বিচারের দাবিতে আমাদেরকে রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে।’
বিচার কার্যক্রমের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে নতুন কোনো রায় হয়নি, নতুন কোনো তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল হয়নি। এটা স্পষ্ট, নতুন যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। নতুন যোগ্য কাউকে দায়িত্বে বসাতে হবে, যিনি গণহত্যার বিচার করতে সক্ষম হবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।’
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলছি, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার করতে না পারলে এ সরকার পাঁচ বছর টিকতে পারবে না।’
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ষোলো-সতেরো বছরে অসংখ্য গুম, খুন ও গণহত্যা চালিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ আজ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কার, বিচার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এগারো দলীয় ঐক্য সংসদে ও সংসদের বাইরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।’
সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার করতে না পারার কারণে আইনমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন ঠেকাতে না পারায় তথ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। সবকিছু বাংলাদেশের জনগণ দেখছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শেকড় দিল্লিতে, এজন্য তাদের আশ্রয়ও হয়েছে দিল্লিতে। তারা ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ পাঁচ আগস্ট সমাপ্ত হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হবে।’
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
























