চুনতি চেকপোস্টে ধাওয়া শেষে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চুনতি পুলিশ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন হাসান।
পুলিশ জানায়, চুনতি পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশিকালে ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৩০৬৫ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এসআই মাইনুদ্দিন হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে ধাওয়া করেন।
একপর্যায়ে চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান ফটক ও চুনতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা দুটি দেশীয় অস্ত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো উদ্ধার করে। পরে গাড়িসহ তিনজনকে আটক করে লোহাগাড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বাসিন্দা হোসাইন আহম্মেদ (৪২), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার আয়াত উল্লাহ (২৮) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মো. আসাদুজ্জামান (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, আসাদুজ্জামান প্রাইভেটকারটির চালক।
থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মালিকানা অস্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র বহনের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। যদিও অস্ত্রের প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র দুটি জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্টে তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও পেশাদার অভিযানের ফলে সন্দেহভাজনদের আটক এবং অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।



















