মানিলন্ডারিং মামলায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।
হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরনী দাসের ছেলে।
পুলিশ জানায়, রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস আর্থিক সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময় শূকর পালন, বাঁশের তৈরি ডালি-কুলা বিক্রি এবং শ্যালো মেশিন চালানোর কাজ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে চলে যান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় বসবাস শুরু করে পুরোনো এসি মেরামত ও বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। চাকরি, বদলি, টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে র্যাব তাকে গ্রেফতার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে পুনরায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
দেশে ফিরে পলাশবাড়ীর মধ্য রামচন্দ্রপুরের পুরোনো শিব ও কালীমন্দিরের স্থানে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ নির্মাণকাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুতে ৮১ ফুট উচ্চতার এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। পরে মূর্তির অর্থায়নের উৎস, জমির মালিকানা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয় নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গত ১১ জুন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা সিআইডির একটি বিশেষ দল রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেফতার করে। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। পরে তাকে সিআইডির হেফাজতে ঢাকায় নেওয়া হয়।’



















