জামায়াতের সঙ্গে যাচ্ছে এনসিপি, থাকছে বড় চমক
- আপডেট সময় : ১১:২৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতার চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি ইতিমধ্যে নিজ দল ও ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য আসন ভাগাভাগির কাজ প্রায় শেষ করেছে। এ অবস্থায় তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছে—এমন আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না। বরং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নির্বাচনী সমঝোতার পথে এগোচ্ছে এনসিপি।
এনসিপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বুধবার জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে দুই দফা বৈঠক হয়। সেখানে সরাসরি জোট নয়, মূলত আসন সমঝোতার বিষয়েই ঐকমত্য হয়েছে। সংস্কার, বিচারসহ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতেও দুই দল কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে।
বৈঠকে আসন বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এনসিপি কমপক্ষে ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে ২০-৩০টি আসন ছাড় দেয়ার বিষয়ে দর কষাকষি হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০টি আসনে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রের দাবি, এসব আসনে এনসিপির বর্তমান জোটসঙ্গীরাও থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এনসিপির সঙ্গে তাদের জোট সঙ্গীরাও সমঝোতার ভিত্তিতে আসন পাবে। এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের একাংশ আসন সমঝোতায় আসতে পারে। তবে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আসা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, দলটি কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহ থাকলেও বিএনপি এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আপাতত জামায়াতের সঙ্গেই নির্বাচনী ঐক্যে পৌঁছেছে এনসিপি। এ কারণে প্রার্থী তালিকায় শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার আসন পরিবর্তনও হতে পারে।
তবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি বা জামায়াত—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সবকিছু স্পষ্ট হবে।
গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের নেতারাও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন। তাদের মতে, এতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও আসন অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে জোটে নতুন দল যুক্ত হওয়ার কথাও চলছে এবং চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
এবি পার্টির এক নেতা জানান, বিএনপির সঙ্গে যারা জোটে যায়নি—এমন দলগুলো গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে যোগ দিতে পারে। তবে নির্বাচনে ভালো ফলের জন্য বড় দলের সঙ্গে সমঝোতা জরুরি, আর সেই ক্ষেত্রে জামায়াতই এগিয়ে আছে।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে চূড়ান্ত জোট না হলেও, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের ব্যানারে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থী বাছাই, যৌথ ইশতেহার, প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এনসিপি প্রথম দফায় ১২৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০–৫০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা আসছে। এবি পার্টি আগেই ১০৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও হুমকি রাজনীতিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তবে আসন সমঝোতা যাই হোক, এনসিপি নিজেদের প্রতীক শাপলা কলি নিয়েই নির্বাচনে যাবে। জোটে থাকা বা যুক্ত হতে যাওয়া দলগুলোর অনেকেই এই প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী, বিশেষ করে যাদের নিবন্ধন নেই। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেছেন, অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা হলেও এনসিপির কেউ ধানের শীষ বা অন্য কোনো প্রতীকে নির্বাচন করবেন না—সবাই শাপলা কলিতেই ভোটে লড়বেন।
























