অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে একাধিক ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সঠিক মান বজায় রেখে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার নামে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স বা অনুমোদনের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলেও জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে টানানো নেই। ফলে রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভাদুরিয়া বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোরছালিন হোসেন বলেন, তারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন এবং নিয়ম মেনেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বলেন, অনুমোদনহীনভাবে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি জরুরি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, সরকারি লাইসেন্স ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা আইনগতভাবে বৈধ নয়। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, লাইসেন্স ছাড়া ডায়াগনস্টিক বা প্যাথলজি সেন্টার পরিচালনা করা আইনবিরোধী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























