ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে কিন্ডারগার্টেন: ধুঁকছে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

দেশের অলিতে-গলিতে, পাড়া-মহল্লায় এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে তথাকথিত ‘কিন্ডারগার্টেন’ বা কেজি স্কুল। চটকদার বিজ্ঞাপন, আকর্ষণীয় ইউনিফর্ম আর ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার প্রলোভনে এসব প্রতিষ্ঠানের রমরমা ব্যবসা চললেও, এর ভিড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। অবকাঠামো আর বিশাল শিক্ষক বহর থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে দেশের বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চটকদার বিজ্ঞাপনে মজেছে অভিভাবক
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি জীর্ণ বাড়িতে বা বাণিজ্যিক ভবনের দুই-তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে কোনোমতে চলছে অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন। নেই খেলার মাঠ, নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। অথচ অভিভাবকদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে, সরকারি স্কুলের চেয়ে কেজি স্কুলে তদারকি বেশি।
অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি স্কুলে পড়াশোনার মান নিয়ে আস্থার অভাব এবং প্রাইভেট টিউশন কালচারের কারণে তারা বাধ্য হয়েই বেশি খরচ করে কিন্ডারগার্টেনমুখী হচ্ছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারি প্রাথমিকে। শিক্ষার্থীর অভাবে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং সরকারি উপবৃত্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই চিত্র ভয়াবহ। দেখা যাচ্ছে, একই পাড়ায় সরকারি স্কুল থাকলেও সেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হাতেগোনা, অথচ পাশের একটি সরু গলির কিন্ডারগার্টেনে ভিড় উপচে পড়ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, সরকারি ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভীতকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বেশ কিছু মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন, তদারকির অভাব: কিন্ডারগার্টেনগুলো কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো পাঠ্যক্রম ও ফি নির্ধারণ করছে।
ভুল ধারণা: ইংরেজি শিখলেই ভালো ভবিষ্যৎ—এই অন্ধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত: সরকারি স্কুলে শিক্ষকের অভাব না থাকলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিন্ডারগার্টেনগুলোর এই নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার রোধ করা না গেলে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা না গেলে দেশ এক সময় দুই ধারার (ধনী ও দরিদ্র) বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থার কবলে পড়বে।
”প্রাথমিক শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। কিন্তু এই মেরুদণ্ড আজ কোচিং ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভারে নুয়ে পড়ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি স্কুলগুলোকে কেবল অবকাঠামো নয়, মানসম্মত পরিবেশ ও আধুনিকায়নের দিকে নজর দিতে হবে।”
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে হলে কঠোর মনিটরিং এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোর লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ‘সবার জন্য শিক্ষা’ স্লোগানটি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।























