ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু : জড়িতদের শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানীর বিষয়ে বিভাগকে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে। নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ফলাফল ও চাকরির প্রলোভন দেখানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা বলেন, মিমোর পরিবারের নেতৃত্বে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের জন্য কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তদন্ত সাপেক্ষে উম্মে হানীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে আরও দাবি করা হয়, একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অযাচিত যোগাযোগ বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং শিক্ষক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধ রাখারও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনার পর বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রো-উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই।
এ সময় বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের কিছু শিক্ষকের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত ও মানসিক নিপীড়নের সেই পরিস্থিতির করুণ পরিণতিই মিমোর অকাল মৃত্যু। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।























