সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণ চেষ্টায় চরম উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় খলিশাকোটাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সড়ক নির্মাণ করতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজিবির তীব্র প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় ভারতীয় মেঘ নারায়ণের কুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা পাকা রাস্তার কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের সঙ্গে বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা প্রদান করে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির পাশে অবস্থান নেয়।
এর আগে বিকাল ৩টার দিকে রাস্তা নির্মাণের প্রথম দফা শুরু হলে বিজিবি বাধা দিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ৯৩৪ নম্বর মেইন পিলারের পাশে প্রথম পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসএফ রাস্তার কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বিজিবির টহলদল চলে গেলে বিকাল ৪টার দিকে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় দফা পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়ণের কুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার। স্বল্প সময়ের বৈঠকে উভয়পক্ষ আগামী ১৩ জানুয়ারি অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে একমত হয় এবং বিএসএফ সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, খলিশাকোটাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪ থেকে ১ থেকে ১১নং সাব পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা রাস্তার অংশ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শূন্য লাইন থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো পাকা স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। বিএসএফ তা অমান্য করে কাজ শুরু করেছিল।
বালারহাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের বলেন, “বৈঠকে উভয় দেশের অধিনায়ক পর্যায়ে ফোনালাপ হয়েছে। ১৩ জানুয়ারির আগে বিএসএফ আর কাজ করবে না। সেই বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

























