বিধান পরিষদ নির্বাচন বিজেপি ও কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলে দিল
- আপডেট সময় : ০২:৩০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের চার রাজ্যের বিধান পরিষদের ফল বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলকেই চিন্তায় ফেলে দিল। বিজেপির চিন্তা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন বারানসি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তর নাগপুরে তারা হেরে গেছে। কংগ্রেসের চিন্তা, ভোট হওয়া মোট ২৮টি আসনের মধ্যে নাগপুর ছাড়া কোথাও তারা জিততে পারেনি। তাদের পক্ষে সবচেয়ে হতাশাজনক ফল হয়েছে কর্ণাটকে, যেখানে তারা সরকারে রয়েছে। ওই রাজ্যে ৪ আসনের প্রতিটিতেই তারা হেরেছে।
গতকাল বুধবার এই ফল প্রকাশের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘চার বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্ণাটকে বিধান পরিষদের ২৮ আসনে ভোট হলো। ভোট হয়েছে ব্যালট পেপারে। বলুন তো, কংগ্রেস কয়টা আসন জিতেছে?’
.
ওই মন্তব্যের শেষে মোদি চোখে আতশি কাচ ধরা একটা ইমোজি জুড়ে দেন।
কটাক্ষের একটা কারণ হার; অন্য কারণ, ইভিএমের সমালোচনা। কংগ্রেস ‘ভোট চুরি’র জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি দায়ী করে আসছে ইভিএমকেও। বলছে, কমিশন ইভিএমেও কারচুপি করে। তারা ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। এবার বিধান পরিষদের ভোট হলো ব্যালট পেপারে। মোদি কংগ্রেসকে তা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি।
মোদি ওই কটাক্ষ যখন করেন, তখনো নাগপুরের ফল প্রকাশিত হয়নি। অনেক রাতে গণনা শেষ হলে দেখা যায়, সংঘের ঘাঁটি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশের নির্বাচনী আসন নাগপুরে কংগ্রেসপ্রার্থী অভিজিৎ ওয়াংজারি ৩ হাজার ২৭১ ভোটে জিতেছেন।
.
তার পরেই মোদির কটাক্ষের জবাব দেয় কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তা হলে? মোদি সাহেব নিজের লোকসভা আসনে বিধান পরিষদ আসন হারালেন, নাগপুরেও বিজেপি হেরে গেল। বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতেছে?’
বিজেপির পক্ষে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকল উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। উত্তর প্রদেশে ভোট হয় ১১ আসনে। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬টি, অন্য ৫টি আসন জিতেছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি), যারা আগের বারের তুলনায় ২টি আসন বেশি জিতেছে। তিন মাসের মধ্যে যে রাজ্যে বিধানসভার ভোট, সেখানে বারানসির মতো আসনে ২ বিধান পরিষদে এসপির কাছে হার এবং এসপির আসন বৃদ্ধি রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
এর চেয়েও বড় কথা, বারানসির যে দুই কেন্দ্রে ভোট হয়, শিক্ষক সমাজ ও স্নাতকেরা ছিলেন সেখানকার ভোটার। শিক্ষিত ভোটারদের বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা ইঙ্গিতবাহী।
বিধান পরিষদের মোট আসনের এক–তৃতীয়াংশ নির্বাচন করেন বিধায়ক ও পৌরসভা-পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। মোট আসনের ১২ ভাগের এক ভাগের নির্বাচকমণ্ডলী হলেন শিক্ষক সমাজ ও স্নাতকেরা। মোট আসনের ৬ ভাগের এক ভাগকে মনোনীত করেন রাজ্যপাল। এবার যে ৪ রাজ্যের ভোট হলো, তার নির্বাচকমণ্ডলী ছিলেন শুধু শিক্ষক ও স্নাতক ভোটারেরা।
.
ভারতীয় সংসদে যেমন দুটি কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভা; তেমনই ভারতের রাজ্যগুলোর নিম্নকক্ষ হলো বিধানসভা, উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরলমসহ অধিকাংশ রাজ্যেই বিধান পরিষদ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিধান পরিষদ এখনো রেখে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬টি রাজ্যে: উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশ।
মহারাষ্ট্র বিজেপিকে চিন্তায় রাখল। কারণ, সেখানে পাঁচটি আসনের মধ্যে তাদের জোট ‘মহাজুটি’ জিতেছে মাত্র দুটি। বাকি তিনটি আসনই পেয়েছে বিরোধী ‘এমভিএ’ জোট। নাগপুরে বিজেপির হার চিন্তাজনক। এই আসনটি ২০২০ সালেও কংগ্রেস জিতেছিল। কিন্তু এবার তা ছিনিয়ে নিতে সেখানকার বাসিন্দা ও সেখান থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ফাডনবিশ এবং সেখানকার সংসদ সদস্য নিতিন গড়করি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। নাগপুর থেকেই টানা ২৪ বছর বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন নিতিন গড়করি। শারদ পাওয়ারের এনসিপি এই ভোটে দুটি আসন জিতেছে।
.
বিজেপিকে যেমন চিন্তান্বিত রেখেছে উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র, কংগ্রেসের দুশ্চিন্তা তেমন কর্ণাটক। দক্ষিণের এই রাজ্যে যে চার আসনে ভোট হয়, তার তিনটি ছিল বিজেপির, একটি কংগ্রেসের। মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর ডি কে শিবকুমারের এটাই ছিল প্রথম ভোট। তিনি দুটি আসন জেতার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, জেতা আসনটিও হাতছাড়া হলো।
কংগ্রেসকে হারিয়ে সেই আসন জিতে নিয়েছে বিজেপির শরিক দল জেডি(এস)। বিজেপিও তাদের জেতা তিনটি আসনই ধরে রেখেছে। কর্ণাটক বিধানসভার ভোট ২০২৮ সালে। ঘর ও দল গোছানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার পাবেন। এই ভোটে বোঝা গেল, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত না মিটলে কংগ্রেসকে এই রাজ্য হতাশ করতে পারে।
বিধান পরিষদের ভোট বিহারের নতুন রাজনৈতিক তারকা জনসুরাজ পার্টির প্রশান্ত কিশোরের হাসিও চওড়া করেছে। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের বিধানসভা আসন বাঁকিপুরের উপনির্বাচনে জয়ের পর জনসুরাজ পার্টি এবার বিধান পরিষদেও চলে এল। দ্বারভাঙা বিধান পরিষদের শিক্ষক আসনটি তারা জেতে কংগ্রেসপ্রার্থীকে ৩২৪ ভোটে হারিয়ে। বিহারে ভোট হয় ৮ আসনে। বিজেপি জিতেছে ৩টি, তাদের সঙ্গী জেডি(ইউ) ১টি, আরজেডি ও জনসুরাজ পার্টি ১টি করে এবং ২টি আসন জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
























