বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আর বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা এল।
বুধবার বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘পণ্যের বাজার একসঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ধাক্কার মুখে পড়ছে।’ তিনি বলেছেন, ‘জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বাধার কারণে নানা ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য পাওয়ার অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে।’
.
২০২৬ সালে খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। এর কারণ হলো, সংঘাতের কারণে খাদ্যশস্য সরবরাহের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া, তীব্র এল নিনোর প্রভাব এবং জ্বালানি ও সারের চড়া দাম।
এল নিনো প্রাকৃতিকভাবে ঘটে, এমন একটি আবহাওয়াগত ঘটনা। এর প্রভাবে এ বছর পৃথিবীর বড় অংশে তাপমাত্রা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি মানুষের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনকারীদের আরও বেশি বন্যা, খরা ও অতিরিক্ত গরমের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
.
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৭ সালে দাম কিছুটা কমতে পারে। এই পূর্বাভাস দেওয়ার সময় ধরে নেওয়া হয়েছে, ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাত আবারও তীব্র হবে না।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম হু হু করে বেড়েছে। এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালায় ইরান। দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলও কার্যত আটকে দেয়। এই প্রণালি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এল নিনো খুব শক্তিশালী হলে কিংবা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্যের ওপর হামলা বাড়লে ‘খাদ্যসংকট’ দেখা দিতে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে গেলেও এমন সংকট হতে পারে।
.
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই ঝুঁকিগুলো একসঙ্গে বাস্তব হলে ২০২৭ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ১০৫ মার্কিন ডলার হতে পারে। খাদ্যপণ্যের দামও মূল পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের মাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ৮৭০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
কোসে বলেন, ‘সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের সুরক্ষা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ঋণের বড় বোঝা নিয়ে ইতিমধ্যে সমস্যায় থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়াও অগ্রাধিকার হতে হবে।’
.
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। মহামারির সময় বাদ দিলে চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হবে সবচেয়ে বড় পতন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। তেলের ব্যবহার কমার এই পূর্বাভাস না থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের আরও মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস হতো। তেলের ব্যবহার কমার দিক থেকে এটি হবে তৃতীয় বড় পতন। এর চেয়ে বড় পতন ঘটেছিল করোনা মহামারি ও ১৯৮০ সালের তেলসংকটের সময়।
























