ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের সময় কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।

এর আগে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে

আপডেট সময় : ১১:০০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের সময় কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।

এর আগে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন চান। তিনি বলেন, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। তখন পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে।

পুলিশের দাবি, তদন্তে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র এবং সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।