ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

বুদ্ধিমান নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প এখনো টানে ছেলে–বুড়ো সবাইকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাসিরুদ্দিন হোজ্জা যেমন বুদ্ধিমান, তেমনি কৌতুকপ্রিয়। ১২ শতকে তুরস্কে জন্ম তাঁর। ছিলেন সুফি সাধক। জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর অপরিসীম আগ্রহ ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই তাঁর নামে নানা গল্প চালু হয়ে যায়। গল্পগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন—সমগ্র এশিয়ায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ— কে না তাঁর ভক্ত। হোজ্জার বুদ্ধিদীপ্ত এসব কৌতুক খুব পছন্দ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওশিন জাহানের। প্রথমা প্রকাশনের ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ১০০ গল্প’ বইটা নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে সে। এরপর মায়ের কাছে আবদার করে বইটি কিনে দিতে। নাসিরুদ্দিনের বইটি কেনা হতেই একটু দূরে গিয়ে পড়াও শুরু করে দেয় সে।

চট্টগ্রামের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ বুধবার প্রথমা প্রকাশনের বই উৎসবে দেখা হয় নওশিনের সঙ্গে। সকাল সাড়ে সাতটায় আয়োজন শুরু হলেও জমে ওঠে দুপুর ১২টায় স্কুলের প্রভাতি শাখার ছুটির পর। নওশিনও ছুটির পরই সেখানে যায়। সে জানায়, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প পেলেই পড়ে সে। বই উৎসব হচ্ছে শুনে হোজ্জার বই খুঁজতে এসেছিল সে। আর বইটা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাকে বলে কিনে নিল।

বই উৎসবে গল্প, বিজ্ঞান, কিশোর উপন্যাস, রহস্য, কমিকসসহ নানা বিষয়ের বই ছিল। সঙ্গে ছিল দুটি জনপ্রিয় সাময়িকী কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসছিল স্টলে। কেউ মলাট দেখেই পছন্দের বইটি হাতে তুলে নিচ্ছিল। কেউ উল্টেপাল্টে দেখছিল ভেতরের পাতা। শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে এমন ব্যস্ততা চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান খুঁজছিল কিশোর থ্রিলার। একের পর এক বই হাতে নিয়ে মলাট দেখছিল, পাতা উল্টে পড়ছিল কয়েক লাইন। এরপর রকিব হাসানের দুটি থ্রিলার বই পেয়েই কিনে নেয় সে। নুসরাত জানায়, থ্রিলার পড়তে তার ভালো লাগে। মেলায় এসে পছন্দের অনেক বই একসঙ্গে দেখার সুযোগ পেয়েছে সে।

তবে অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা গেল বিজ্ঞানবিষয়ক বই, সায়েন্স ফিকশন আর অ্যাডভেঞ্চারের বইয়ের খোঁজ করতে। কেউ কিনছিল কমিকস আবার কেউ কিশোর উপন্যাস। বোঝা গেল, শিশু–কিশোরদের পছন্দের তালিকা মোটেও ছোট নয়।

উৎসব নিয়ে কথা হয় ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শাহীম আল রাজির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ জন্মের পর থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, মানবসভ্যতার যে অগ্রগতি হয়েছে, এর পেছনে বইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। এখন হয়তো আমরা বলছি, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ আসছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ আসছে। কিন্তু এসবের পেছনেও বইয়ের জ্ঞান রয়েছে।’

শাহীম আল রাজি আরও বলেন, এ ধরনের বইমেলার আয়োজন অবশ্যই একটি সুন্দর উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের বই সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারবে। বিজ্ঞান, গল্প, ইতিহাসসহ নানা বিষয়ের বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। তাদের কৌতূহলও মেটাতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

বুদ্ধিমান নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প এখনো টানে ছেলে–বুড়ো সবাইকে

আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

নাসিরুদ্দিন হোজ্জা যেমন বুদ্ধিমান, তেমনি কৌতুকপ্রিয়। ১২ শতকে তুরস্কে জন্ম তাঁর। ছিলেন সুফি সাধক। জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর অপরিসীম আগ্রহ ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই তাঁর নামে নানা গল্প চালু হয়ে যায়। গল্পগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন—সমগ্র এশিয়ায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ— কে না তাঁর ভক্ত। হোজ্জার বুদ্ধিদীপ্ত এসব কৌতুক খুব পছন্দ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওশিন জাহানের। প্রথমা প্রকাশনের ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ১০০ গল্প’ বইটা নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে সে। এরপর মায়ের কাছে আবদার করে বইটি কিনে দিতে। নাসিরুদ্দিনের বইটি কেনা হতেই একটু দূরে গিয়ে পড়াও শুরু করে দেয় সে।

চট্টগ্রামের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ বুধবার প্রথমা প্রকাশনের বই উৎসবে দেখা হয় নওশিনের সঙ্গে। সকাল সাড়ে সাতটায় আয়োজন শুরু হলেও জমে ওঠে দুপুর ১২টায় স্কুলের প্রভাতি শাখার ছুটির পর। নওশিনও ছুটির পরই সেখানে যায়। সে জানায়, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প পেলেই পড়ে সে। বই উৎসব হচ্ছে শুনে হোজ্জার বই খুঁজতে এসেছিল সে। আর বইটা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাকে বলে কিনে নিল।

বই উৎসবে গল্প, বিজ্ঞান, কিশোর উপন্যাস, রহস্য, কমিকসসহ নানা বিষয়ের বই ছিল। সঙ্গে ছিল দুটি জনপ্রিয় সাময়িকী কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসছিল স্টলে। কেউ মলাট দেখেই পছন্দের বইটি হাতে তুলে নিচ্ছিল। কেউ উল্টেপাল্টে দেখছিল ভেতরের পাতা। শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে এমন ব্যস্ততা চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান খুঁজছিল কিশোর থ্রিলার। একের পর এক বই হাতে নিয়ে মলাট দেখছিল, পাতা উল্টে পড়ছিল কয়েক লাইন। এরপর রকিব হাসানের দুটি থ্রিলার বই পেয়েই কিনে নেয় সে। নুসরাত জানায়, থ্রিলার পড়তে তার ভালো লাগে। মেলায় এসে পছন্দের অনেক বই একসঙ্গে দেখার সুযোগ পেয়েছে সে।

তবে অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা গেল বিজ্ঞানবিষয়ক বই, সায়েন্স ফিকশন আর অ্যাডভেঞ্চারের বইয়ের খোঁজ করতে। কেউ কিনছিল কমিকস আবার কেউ কিশোর উপন্যাস। বোঝা গেল, শিশু–কিশোরদের পছন্দের তালিকা মোটেও ছোট নয়।

উৎসব নিয়ে কথা হয় ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শাহীম আল রাজির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ জন্মের পর থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, মানবসভ্যতার যে অগ্রগতি হয়েছে, এর পেছনে বইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। এখন হয়তো আমরা বলছি, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ আসছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ আসছে। কিন্তু এসবের পেছনেও বইয়ের জ্ঞান রয়েছে।’

শাহীম আল রাজি আরও বলেন, এ ধরনের বইমেলার আয়োজন অবশ্যই একটি সুন্দর উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের বই সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারবে। বিজ্ঞান, গল্প, ইতিহাসসহ নানা বিষয়ের বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। তাদের কৌতূহলও মেটাতে পারবে।