ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

সেই দলটির প্রধান নেত্রী, এখনো হুমকি দিচ্ছেন, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে: জাহেদ উর রহমান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সরকারের দিক থেকে ‘রিকনসিলিয়েশন’–এর আলাপ করা কঠিন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই তা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তাদের চাইতে হবে। মৌলিক শর্ত নিশ্চিত করা হলে সেই আলাপ শুরু হতে পারে বলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘…কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলটির প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তাঁর বক্তব্য…মনে হয় প্রথম কথা বলতে শুনলাম, খুব শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ আলোচকেরা বলেছেন, অপরাধের বিচার জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন। তা না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তেমনি দরকার রিকনসিলিয়েশন।

ওই অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে আজকের সংবাদ সম্মেলনে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি, দুভার্গ্যজনকভাবে দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, যাঁরা পালিয়ে গেছেন, তাঁদের কথা বলছি না। যাঁরা এ দেশে আছেন, তাঁদের মধ্যে একটি পারসেন্টেজের মানুষ, পারসেন্টেজ নিয়ে ডিবেট করতে পারি, সেই ডিবেটে যাচ্ছি না, মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থনও করেন। সুতরাং এ দেশের নাগরিক তাঁরা।…সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যাঁরা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছেন, তাঁদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া নয়, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটি কী? কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়?’ রিকনসিলিয়েশনের ক্ষেত্রে অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপের ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য উপদেষ্টা।

এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের আলাপটা হওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘তারা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’

যাঁরা রিকনসিলিয়েশন চান, তাঁদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাঁদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সেই দলটির প্রধান নেত্রী, এখনো হুমকি দিচ্ছেন, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে: জাহেদ উর রহমান

আপডেট সময় : ০৩:০০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সরকারের দিক থেকে ‘রিকনসিলিয়েশন’–এর আলাপ করা কঠিন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই তা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তাদের চাইতে হবে। মৌলিক শর্ত নিশ্চিত করা হলে সেই আলাপ শুরু হতে পারে বলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘…কিন্তু আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ তারিখের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলটির প্রধান নেত্রী, তিনি এখনো ব্লেম করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি একটা সময় তাঁর বক্তব্য…মনে হয় প্রথম কথা বলতে শুনলাম, খুব শোনার চেষ্টা করেছি। তিনি সমানে হুমকি দিচ্ছেন, সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো, ওই করে ফেলো, নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ আলোচকেরা বলেছেন, অপরাধের বিচার জরুরি। সেই সঙ্গে দরকার রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন। তা না হলে সমাজ গভীরভাবে বিভক্ত থাকে। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে সহিংসতা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তেমনি দরকার রিকনসিলিয়েশন।

ওই অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে আজকের সংবাদ সম্মেলনে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের ভাবনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই আলাপগুলো ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) পর থেকে আমরা প্রচুর করেছি, দুভার্গ্যজনকভাবে দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, যাঁরা পালিয়ে গেছেন, তাঁদের কথা বলছি না। যাঁরা এ দেশে আছেন, তাঁদের মধ্যে একটি পারসেন্টেজের মানুষ, পারসেন্টেজ নিয়ে ডিবেট করতে পারি, সেই ডিবেটে যাচ্ছি না, মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থনও করেন। সুতরাং এ দেশের নাগরিক তাঁরা।…সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যাঁরা আওয়ামী লীগ সক্রিয়ভাবে করেছেন, তাঁদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া নয়, ভালো আইডিয়া। এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু রিকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটি কী? কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশন হয়?’ রিকনসিলিয়েশনের ক্ষেত্রে অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপের ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য উপদেষ্টা।

এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রিকনসিলিয়েশনের আলাপটা হওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘তারা চাচ্ছে না, রিকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’

যাঁরা রিকনসিলিয়েশন চান, তাঁদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মাঝখান থেকে রিকনসিলিয়েশন চেয়ে থাকেন, তাঁদের যদি মনে হয় এটা ভালো, আমিও মনে করি ভালো, তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা।’