ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপবৃত্তির টাকায় ‘বাউন্স’ রহস্য, বঞ্চিত ১,৩৮৪ শিক্ষার্থী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী হয়েও গাইবান্ধায় ছয় মাসে ১ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে ফেরত বা আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা। কেন এসব টাকা শিক্ষার্থীদের হিসাবে যাচ্ছে না, কোথায় ফেরত যাচ্ছে কিংবা কবে তারা সেই অর্থ পাবে, তার স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়ে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার মিলছে না। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থীর টাকা আইবাসে রিটার্ন বা বাউন্স দেখাচ্ছে। তবে কী কারণে টাকা ফেরত যাচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্যও তাদের কাছে নেই।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৩ জন হলেও বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে কোনো তথ্য নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় উপজেলায় ১ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত বা ফেরত গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪২৪ শিক্ষার্থীর ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫২৭ টাকা, সুন্দরগঞ্জে ২১৮ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৫ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২২ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৮ টাকা, পলাশবাড়ীতে ২২৩ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ২১৪ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩১ টাকা এবং ফুলছড়িতে ৮৩ শিক্ষার্থীর ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

দপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের বছরগুলোর হিসাব যুক্ত হলে বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও ফেরত যাওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক গত ৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগে ওই অভিভাবক জানান, শিশু শ্রেণি থেকে ওই শিক্ষার্থী সরকারি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ দুই দফায় তার হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি। বিষয়টি প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক, পরে উপবৃত্তির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হয়।

অভিভাবকের দাবি, বিদ্যালয় থেকে সংরক্ষণে থাকা ‘গৃহীত’ লেখা একটি সিট দেখিয়ে তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে নগদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, ২০২৫ সালের ২ জুলাইয়ের পর ওই অ্যাকাউন্টে কোনো উপবৃত্তির টাকা জমা হয়নি। এরপর গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেও সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান এবং বঞ্চিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অভিভাবক বলেন, ‘দফায় দফায় যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাইনি। প্রায় দুই মাস পর বলা হয়েছে টাকা রিটার্ন গেছে। কেন হঠাৎ টাকা দেওয়া বন্ধ হলো, কোথায় ফেরত গেল, সেটি বের করা জরুরি।’

এদিকে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক তার অ্যাকাউন্টে যাওয়া টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফেরত দিয়েছেন।

ওই ছয় শিক্ষার্থীর একজন চতুর্থ শ্রেণির জিম। জিমের মা স্বপ্না বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে হেড আপা আমাকে ডেকে ৯০৫ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে দিতে চেয়েছেন। আমার অ্যাকাউন্টে হঠাৎ টাকা ঢোকা বন্ধ হয়েছিল।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগম শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তার অ্যাকাউন্টে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। উপবৃত্তি সংক্রান্ত অনলাইনের কাজ আমি করিনি। কাজটি শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে হয়েছে।’

উপবৃত্তি সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বরত গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আবেদনকারী অভিভাবকের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আইবাসে রিটার্ন (বাউন্স) দেখানো হয়েছে। তবে কী কারণে এমনটা হয়েছে, সে সম্পর্কে জানা যায়নি।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন নিয়ম অনুযায়ী যার আইডিকার্ড, তার নামেই নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো এনআইডি ও নতুন স্মার্টকার্ডের নম্বরে অমিল থাকলেও কিছু শিক্ষার্থীর টাকা বন্ধ হচ্ছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকার পরও যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে না, সেটি অনেক সময় শিক্ষার্থীদের অজানা কারণেও হতে পারে।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘উপবৃত্তি বিষয়ে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে আমাদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কিছুই নেই।’

তবে আনঅফিসিয়ালি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থ ফেরত দেখানো শিক্ষার্থীদের এসব টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু কখন বা কোন প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ ফেরত আসবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, ‘উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস দেখে থাকে। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেদুয়ানুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি অর্থ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

উপবৃত্তির টাকায় ‘বাউন্স’ রহস্য, বঞ্চিত ১,৩৮৪ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ১১:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী হয়েও গাইবান্ধায় ছয় মাসে ১ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থী টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে ফেরত বা আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা। কেন এসব টাকা শিক্ষার্থীদের হিসাবে যাচ্ছে না, কোথায় ফেরত যাচ্ছে কিংবা কবে তারা সেই অর্থ পাবে, তার স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়ে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার মিলছে না। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থীর টাকা আইবাসে রিটার্ন বা বাউন্স দেখাচ্ছে। তবে কী কারণে টাকা ফেরত যাচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্যও তাদের কাছে নেই।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৩ জন হলেও বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে কোনো তথ্য নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় উপজেলায় ১ হাজার ৩৮৪ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত বা ফেরত গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪২৪ শিক্ষার্থীর ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫২৭ টাকা, সুন্দরগঞ্জে ২১৮ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৫ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২২ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৮ টাকা, পলাশবাড়ীতে ২২৩ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ২১৪ শিক্ষার্থীর ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩১ টাকা এবং ফুলছড়িতে ৮৩ শিক্ষার্থীর ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

দপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের বছরগুলোর হিসাব যুক্ত হলে বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও ফেরত যাওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক গত ৬ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

অভিযোগে ওই অভিভাবক জানান, শিশু শ্রেণি থেকে ওই শিক্ষার্থী সরকারি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ দুই দফায় তার হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি। বিষয়টি প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক, পরে উপবৃত্তির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হয়।

অভিভাবকের দাবি, বিদ্যালয় থেকে সংরক্ষণে থাকা ‘গৃহীত’ লেখা একটি সিট দেখিয়ে তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে নগদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে তিনি দেখতে পান, ২০২৫ সালের ২ জুলাইয়ের পর ওই অ্যাকাউন্টে কোনো উপবৃত্তির টাকা জমা হয়নি। এরপর গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেও সন্তোষজনক সমাধান না পেয়ে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান এবং বঞ্চিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অভিভাবক বলেন, ‘দফায় দফায় যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাইনি। প্রায় দুই মাস পর বলা হয়েছে টাকা রিটার্ন গেছে। কেন হঠাৎ টাকা দেওয়া বন্ধ হলো, কোথায় ফেরত গেল, সেটি বের করা জরুরি।’

এদিকে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক তার অ্যাকাউন্টে যাওয়া টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফেরত দিয়েছেন।

ওই ছয় শিক্ষার্থীর একজন চতুর্থ শ্রেণির জিম। জিমের মা স্বপ্না বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে হেড আপা আমাকে ডেকে ৯০৫ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে দিতে চেয়েছেন। আমার অ্যাকাউন্টে হঠাৎ টাকা ঢোকা বন্ধ হয়েছিল।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগম শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তার অ্যাকাউন্টে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। উপবৃত্তি সংক্রান্ত অনলাইনের কাজ আমি করিনি। কাজটি শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে হয়েছে।’

উপবৃত্তি সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বরত গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আবেদনকারী অভিভাবকের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আইবাসে রিটার্ন (বাউন্স) দেখানো হয়েছে। তবে কী কারণে এমনটা হয়েছে, সে সম্পর্কে জানা যায়নি।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন নিয়ম অনুযায়ী যার আইডিকার্ড, তার নামেই নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো এনআইডি ও নতুন স্মার্টকার্ডের নম্বরে অমিল থাকলেও কিছু শিক্ষার্থীর টাকা বন্ধ হচ্ছে। তবে সবকিছু ঠিক থাকার পরও যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে না, সেটি অনেক সময় শিক্ষার্থীদের অজানা কারণেও হতে পারে।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘উপবৃত্তি বিষয়ে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে আমাদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কিছুই নেই।’

তবে আনঅফিসিয়ালি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থ ফেরত দেখানো শিক্ষার্থীদের এসব টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু কখন বা কোন প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ ফেরত আসবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, ‘উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস দেখে থাকে। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেদুয়ানুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি অর্থ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’