দাকোপের চালনা খালে মাছ ধরার ধুম
- আপডেট সময় : ০৮:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে দীর্ঘ খরা কেটে প্রাণ ফিরে পেয়েছে খুলনার চালনা পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী চালনা খালসহ বিভিন্ন জলাশয়। টানা চারদিনের বৃষ্টিতে খালটিতে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই নতুন পানির স্রোতের সঙ্গে পশুর নদ থেকে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়েছে খালের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নদী থেকে আসা মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পৌরশহর এলাকায় ফিরে এসেছে বহুদিনের চিরচেনা গ্রামীণ উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে তরুণ-যুবকেরা জাল ও বড়শি হাতে মেতে উঠেছেন মাছ ধরার আনন্দে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চালনা খালটি ২০২৪ সালে নগরায়ন প্রকল্পের আওতায় (সিআরডিপি দ্বিতীয় পর্যায়) প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। পশুর নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই খালটি পৌরসভার ৭ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মান্নানের মোড় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন আবর্জনা ও দখলদারদের কবলে থাকলেও খননের পর এবার বর্ষায় এটি নতুন রূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই খালের দু’পাশে উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা। খেওয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কৃষ্ণপদ বিশ্বাস নামের এক তরুণ জানান, খালটি খননের পর এবার বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি এসেছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছও প্রচুর দেখা যাচ্ছে। শখ করে মাছ ধরতে এসে ভালোই মাছ পাচ্ছি। খালটি খনন করায় আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতা যেমন দূর হয়েছে, তেমনি চাষের মৌসুমে কৃষকরা এই পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করতে পারছেন।
মাছ ধরতে আসা সজল ও বেল্লাল নামের দুই যুবক জানান, বর্ষার নতুন পানিতে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলটা দারুণ কাটছে। টেংরা, গুলেসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ মিলছে জালে। এটি শুধু মাছ ধরা নয়, তাদের কাছে এক প্রকার গ্রামীণ উৎসব।
চালনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চালনা খালটি একসময় আবর্জনা ও অবৈধ দখলে মৃতপ্রায় ছিল। সেটি উদ্ধার করে খনন করায় এখন বৃষ্টির সময় ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হচ্ছে। এছাড়া খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছে তবে এই উৎসবের আমেজের মাঝে দেশীয় মাছের প্রজনন সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
দাকোপ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আষাঢ়ের নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ স্বাভাবিকভাবেই প্রজননের জন্য চলাচল করে। মানুষ আনন্দের জন্য মাছ ধরবে এটি স্বাভাবিক, তবে মাছগুলো যাতে প্রজননের সুযোগ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, চায়না দুয়ারিসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয়। অপেশাদার কিছু মানুষ এই জাল ব্যবহার করে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।





















