ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৩য় দিনে ৪ শতাধিক কারখানায় ছুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের

দাকোপের চালনা খালে মাছ ধরার ধুম

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে দীর্ঘ খরা কেটে প্রাণ ফিরে পেয়েছে খুলনার চালনা পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী চালনা খালসহ বিভিন্ন জলাশয়। টানা চারদিনের বৃষ্টিতে খালটিতে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই নতুন পানির স্রোতের সঙ্গে পশুর নদ থেকে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়েছে খালের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নদী থেকে আসা মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পৌরশহর এলাকায় ফিরে এসেছে বহুদিনের চিরচেনা গ্রামীণ উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে তরুণ-যুবকেরা জাল ও বড়শি হাতে মেতে উঠেছেন মাছ ধরার আনন্দে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চালনা খালটি ২০২৪ সালে নগরায়ন প্রকল্পের আওতায় (সিআরডিপি দ্বিতীয় পর্যায়) প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। পশুর নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই খালটি পৌরসভার ৭ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মান্নানের মোড় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন আবর্জনা ও দখলদারদের কবলে থাকলেও খননের পর এবার বর্ষায় এটি নতুন রূপ ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই খালের দু’পাশে উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা। খেওয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কৃষ্ণপদ বিশ্বাস নামের এক তরুণ জানান, খালটি খননের পর এবার বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি এসেছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছও প্রচুর দেখা যাচ্ছে। শখ করে মাছ ধরতে এসে ভালোই মাছ পাচ্ছি। খালটি খনন করায় আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতা যেমন দূর হয়েছে, তেমনি চাষের মৌসুমে কৃষকরা এই পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করতে পারছেন।

মাছ ধরতে আসা সজল ও বেল্লাল নামের দুই যুবক জানান, বর্ষার নতুন পানিতে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলটা দারুণ কাটছে। টেংরা, গুলেসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ মিলছে জালে। এটি শুধু মাছ ধরা নয়, তাদের কাছে এক প্রকার গ্রামীণ উৎসব।

চালনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চালনা খালটি একসময় আবর্জনা ও অবৈধ দখলে মৃতপ্রায় ছিল। সেটি উদ্ধার করে খনন করায় এখন বৃষ্টির সময় ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হচ্ছে। এছাড়া খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছে তবে এই উৎসবের আমেজের মাঝে দেশীয় মাছের প্রজনন সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

দাকোপ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আষাঢ়ের নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ স্বাভাবিকভাবেই প্রজননের জন্য চলাচল করে। মানুষ আনন্দের জন্য মাছ ধরবে এটি স্বাভাবিক, তবে মাছগুলো যাতে প্রজননের সুযোগ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, চায়না দুয়ারিসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয়। অপেশাদার কিছু মানুষ এই জাল ব্যবহার করে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

দাকোপের চালনা খালে মাছ ধরার ধুম

আপডেট সময় : ০৮:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে দীর্ঘ খরা কেটে প্রাণ ফিরে পেয়েছে খুলনার চালনা পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী চালনা খালসহ বিভিন্ন জলাশয়। টানা চারদিনের বৃষ্টিতে খালটিতে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই নতুন পানির স্রোতের সঙ্গে পশুর নদ থেকে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়েছে খালের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নদী থেকে আসা মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পৌরশহর এলাকায় ফিরে এসেছে বহুদিনের চিরচেনা গ্রামীণ উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে তরুণ-যুবকেরা জাল ও বড়শি হাতে মেতে উঠেছেন মাছ ধরার আনন্দে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চালনা খালটি ২০২৪ সালে নগরায়ন প্রকল্পের আওতায় (সিআরডিপি দ্বিতীয় পর্যায়) প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। পশুর নদ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই খালটি পৌরসভার ৭ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মান্নানের মোড় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন আবর্জনা ও দখলদারদের কবলে থাকলেও খননের পর এবার বর্ষায় এটি নতুন রূপ ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই খালের দু’পাশে উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা। খেওয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কৃষ্ণপদ বিশ্বাস নামের এক তরুণ জানান, খালটি খননের পর এবার বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি এসেছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছও প্রচুর দেখা যাচ্ছে। শখ করে মাছ ধরতে এসে ভালোই মাছ পাচ্ছি। খালটি খনন করায় আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতা যেমন দূর হয়েছে, তেমনি চাষের মৌসুমে কৃষকরা এই পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করতে পারছেন।

মাছ ধরতে আসা সজল ও বেল্লাল নামের দুই যুবক জানান, বর্ষার নতুন পানিতে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলটা দারুণ কাটছে। টেংরা, গুলেসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ মিলছে জালে। এটি শুধু মাছ ধরা নয়, তাদের কাছে এক প্রকার গ্রামীণ উৎসব।

চালনা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চালনা খালটি একসময় আবর্জনা ও অবৈধ দখলে মৃতপ্রায় ছিল। সেটি উদ্ধার করে খনন করায় এখন বৃষ্টির সময় ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন হচ্ছে। এছাড়া খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে স্থানীয় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছে তবে এই উৎসবের আমেজের মাঝে দেশীয় মাছের প্রজনন সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

দাকোপ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আষাঢ়ের নতুন পানিতে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ স্বাভাবিকভাবেই প্রজননের জন্য চলাচল করে। মানুষ আনন্দের জন্য মাছ ধরবে এটি স্বাভাবিক, তবে মাছগুলো যাতে প্রজননের সুযোগ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, চায়না দুয়ারিসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয়। অপেশাদার কিছু মানুষ এই জাল ব্যবহার করে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।