ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছি, উল্টো আমার ওপরই হামলা করেছে’ টিএমজিবির সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত রায় ৫৫ বছরেও কনসার্টের জন্য স্থায়ী ভেন্যু নেই, এটা লজ্জার: হামিন আহমেদ এইচএসসিতে এমন ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল অগ্নিকাণ্ডে পুঁজি হারানো ব্যবসায়ীর পাশে রব্বানী, দিলেন ২ লাখ টাকা একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট তৈরি করছে ইলন মাস্কের নিউরালিংক, যে সুবিধা পাওয়া যাবে আলীবাবা থেকে বাংলাদেশি কোম্পানি স্টেপ ফুটওয়্যারের জুতা কিনতে পারবেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙনের শন্কায় রয়েছে লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানেনা কত ঘনফুট মাটি কাটা হয়েছে। হুমকিতে পড়ছে ডান তীর বামতীর রক্ষা বাধ। রাত দিন ২৪ ঘন্টা অন্তবর্তী কালীন সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া বালু মহলে আবার চলছে বালুকাটা।

নড়িয়া পদ্মা নদীতে টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে নতুন করে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ নদীভাঙন। হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ও কয়েক কোটি টাকা বেয়ে পদ্মার ডানতীর ও বাম তীর রক্ষা বাধ।

স্থানীয়রা আরও জানান,দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বিশেষ করে চরআত্রা, নওয়াপাড়া, সুরেশ্বর ও কেদারপুর এলাকায় দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ডান তীর রক্ষা বাঁধও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান,আগে একবার ভাঙনে সব হারাইছি। এখন আবার বালু কাটার কারণে ভয় লাগতেছে। যেকোনো সময় বড় ভাঙন শুরু হতে পারে।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেই বাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের আঁতাত থাকায় প্রকাশ্যেই চলছে এ কার্যক্রম।শুধু বাড়িঘর না, কৃষিজমিও হুমকির মধ্যে আছে, আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি। তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত স্থান থেকেই নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ কোনো কার্যক্রম চলছে না।

এদিকে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) মোঃ আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আবারও ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়বে পুরো জনপদ। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা

আপডেট সময় : ১২:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙনের শন্কায় রয়েছে লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানেনা কত ঘনফুট মাটি কাটা হয়েছে। হুমকিতে পড়ছে ডান তীর বামতীর রক্ষা বাধ। রাত দিন ২৪ ঘন্টা অন্তবর্তী কালীন সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া বালু মহলে আবার চলছে বালুকাটা।

নড়িয়া পদ্মা নদীতে টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে নতুন করে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ নদীভাঙন। হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ও কয়েক কোটি টাকা বেয়ে পদ্মার ডানতীর ও বাম তীর রক্ষা বাধ।

স্থানীয়রা আরও জানান,দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বিশেষ করে চরআত্রা, নওয়াপাড়া, সুরেশ্বর ও কেদারপুর এলাকায় দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ডান তীর রক্ষা বাঁধও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান,আগে একবার ভাঙনে সব হারাইছি। এখন আবার বালু কাটার কারণে ভয় লাগতেছে। যেকোনো সময় বড় ভাঙন শুরু হতে পারে।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেই বাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের আঁতাত থাকায় প্রকাশ্যেই চলছে এ কার্যক্রম।শুধু বাড়িঘর না, কৃষিজমিও হুমকির মধ্যে আছে, আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি। তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত স্থান থেকেই নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ কোনো কার্যক্রম চলছে না।

এদিকে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) মোঃ আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আবারও ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়বে পুরো জনপদ। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।