সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে সুন্দরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল, খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখা। এসময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার বাহিরগোলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের আইন সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক মো. সাগর সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সুন্দরগঞ্জ পূর্ব সাংগঠনিক থানা শাখার সভাপতি মো. জিসান রাকিব এবং সুন্দরগঞ্জ পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সুরুজ মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন তরুণ ছাত্রনেতাকে হত্যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে সংঘটিত এমন নৃশংস হামলা সমাজে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে। তারা সাইফুল্লাহ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রসঙ্গত, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। গত রোববার বিকেলে বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও শিবিরকর্মী সালাহউদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই ঘটনায় আহত সালাহউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।























