ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে নাজমুল গত ২০ বছরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনমান ও মূল্যবৃদ্ধি একনজরে কাপ্তাই হ্রদের কাচকি-চাপিলা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, যেসব কারণ জানালেন গবেষকেরা রিপাবলিকানদের টেক্সাস ‘দুর্গ’ কি এবার ভেঙে দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ৩৭ বছর বয়সী টালারিকো ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ অবস্থানে আফগানিস্তান, পেছনে পড়ল শ্রীলঙ্কাও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, তবে জরিপ নিয়ে আশঙ্কাও কি নেই এক জোড়া ছোট্ট মাছের দাম ১৫ হাজার টাকা, মেলায় ছিল আরও কত চমক সাপ-পোকামাকড়ের ভয় মানেই প্রকৃতির প্রতি অনাগ্রহ নয় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রেখেছে চীন, দেখায়নি রিয়াল মাদ্রিদের খেলা

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা: ৬ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা, গ্রেফতার ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যা ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে সাঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত সাইফুল্লাহ বারীর পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (২২ জুন) রাতে সাঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি থানার মামলা নম্বর-২৩ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ খন্দকার, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, মোনারুল ইসলাম ও শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রোববার রাতেই মামলার ৩ নম্বর আসামি আশরাফ খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার রাতে বোনারপাড়া বাজার এলাকা থেকে মামলার আরও দুই আসামি রবিউল ইসলাম ও শাহ আলমকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আশরাফ খন্দকার সাঘাটা উপজেলার বাটি গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে। রবিউল ইসলাম তাইড় গ্রামের শাহ আলম শিমুলের ছেলে এবং শাহ আলম বোনারপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় হামলার শিকার হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই গাইবান্ধা জেলা যুবদল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করে। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

সোমবার বিকেলে বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা: ৬ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা, গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যা ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে সাঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত সাইফুল্লাহ বারীর পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (২২ জুন) রাতে সাঘাটা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি থানার মামলা নম্বর-২৩ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, তার ছোট ভাই পলাশ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ খন্দকার, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, মোনারুল ইসলাম ও শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রোববার রাতেই মামলার ৩ নম্বর আসামি আশরাফ খন্দকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার রাতে বোনারপাড়া বাজার এলাকা থেকে মামলার আরও দুই আসামি রবিউল ইসলাম ও শাহ আলমকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আশরাফ খন্দকার সাঘাটা উপজেলার বাটি গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে। রবিউল ইসলাম তাইড় গ্রামের শাহ আলম শিমুলের ছেলে এবং শাহ আলম বোনারপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় হামলার শিকার হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই গাইবান্ধা জেলা যুবদল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করে। হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

সোমবার বিকেলে বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।