জনসেবার দৃষ্টান্ত রেখে চুনতি ছাড়ছেন আব্বাস আলী
- আপডেট সময় : ১২:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আব্বাস আলীর বদলির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীলতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চুনতি পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করেন আব্বাস আলী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনেই নয়, ফাঁড়ির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তার উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকা ফাঁড়ির বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার করা হয়। পুলিশ সদস্যদের আবাসন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকা ইবাদতখানার সংস্কার ও সমাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। তার আন্তরিক তদারকি ও প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, যা ফাঁড়ির সার্বিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
গত ১৬ জুন তিনি বদলির আদেশ পান। নতুন কর্মস্থল হিসেবে তাকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার শিলক তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে আব্বাস আলী বলেন, “পুলিশ বিভাগে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেখানেই সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব। চুনতির মানুষের ভালোবাসা আমি সবসময় মনে রাখব।”
সহকর্মীরা জানান, আব্বাস আলী একজন কর্মঠ, সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দায়িত্ব পালনে তিনি কখনো অবহেলা করেননি এবং অধীনস্থ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সবসময় আন্তরিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, বরং জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভদ্র আচরণ এবং মানবিক মনোভাবের কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন।
এলাকাবাসীর মতে, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন সাদাসিধে ও ধর্মপ্রাণ। নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি মানুষকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করতেন। তাদের বিশ্বাস, নতুন কর্মস্থলেও তিনি একই সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করবেন।
চুনতির অনেক বাসিন্দা বলেন, “আব্বাস আলীর মতো একজন মানবিক ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রশাসনিক নিয়মের অংশ হলেও, তার বিদায়ে চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি শূন্যতা তৈরি হবে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
























