ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের নিচে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৫ জনের চাকরি, বেতন নতুন পে স্কেলে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হাতিয়ায় স্কুলশিক্ষিকার বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্য আমিনুল ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ, প্রস্তুত জলকামান–দাঙ্গা দমনের যান পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি মিশিগানে সিনেট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের

গাইবান্ধায় রেলওয়ের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান, বড় স্থাপনা অক্ষত থাকায় প্রশ্ন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা শহরে রেলওয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১০ জুন) গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ এ অভিযান চালায়।

অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও রেললাইনের দুই পাশের বিপজ্জনক সীমানায় থাকা আরও বহু স্থাপনা অক্ষত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জর হোসেন। এ সময় গাইবান্ধা স্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র, সার্ভেয়ারসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তাকর্মীরা উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

অভিযানে রেল স্টেশন এলাকা, কাউয়া চত্বর এবং ২ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা শতাধিক দোকান, টিনশেড স্থাপনা ও অস্থায়ী কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। তবে একই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে থাকা কয়েক শ স্থায়ী দোকান, ক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে গড়ে ওঠা স্থাপনা এখনো অক্ষত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রেলওয়ে বিধিমালা অনুযায়ী, রেললাইনের উভয় পাশে অন্তত ১৫ ফুট পর্যন্ত এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ সীমানা হিসেবে বিবেচিত। এই সীমানার মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অথচ শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট, মার্কেট ও ক্লাবঘর গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাউয়া চত্বর থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যার অনেকগুলো স্থায়ীভাবে নির্মিত এবং সেখানে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় দশকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবের নামে এসব জমি দখল করা হয়েছে। রেলের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইজারার আড়ালে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তা মূলত ছোট দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রভাবশালীদের বড় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেকেই এ অভিযানকে ‘লোক দেখানো’ বলে মন্তব্য করছেন।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের আগে কিছু ব্যবসায়ীকে আগাম সতর্ক করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত অবৈধ স্থাপনার বড় অংশ থেকেই যায় এবং উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, রেলওয়ের জমি রক্ষা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে শুধু ছোট দোকান নয়, প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধেও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এসব অভিযান কার্যকর ফল বয়ে আনবে না।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা স্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র বলেন, ‘রেললাইনের দুই পাশে যেসব স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে, তার অনেকই রেলের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে অবস্থিত। তাই সেগুলো এখনই উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।’ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গাইবান্ধায় রেলওয়ের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান, বড় স্থাপনা অক্ষত থাকায় প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা শহরে রেলওয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১০ জুন) গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ এ অভিযান চালায়।

অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও রেললাইনের দুই পাশের বিপজ্জনক সীমানায় থাকা আরও বহু স্থাপনা অক্ষত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জর হোসেন। এ সময় গাইবান্ধা স্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র, সার্ভেয়ারসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তাকর্মীরা উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

অভিযানে রেল স্টেশন এলাকা, কাউয়া চত্বর এবং ২ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা শতাধিক দোকান, টিনশেড স্থাপনা ও অস্থায়ী কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। তবে একই এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে থাকা কয়েক শ স্থায়ী দোকান, ক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে গড়ে ওঠা স্থাপনা এখনো অক্ষত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

রেলওয়ে বিধিমালা অনুযায়ী, রেললাইনের উভয় পাশে অন্তত ১৫ ফুট পর্যন্ত এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ সীমানা হিসেবে বিবেচিত। এই সীমানার মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অথচ শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট, মার্কেট ও ক্লাবঘর গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাউয়া চত্বর থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যার অনেকগুলো স্থায়ীভাবে নির্মিত এবং সেখানে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় দশকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন ও ক্লাবের নামে এসব জমি দখল করা হয়েছে। রেলের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইজারার আড়ালে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তা মূলত ছোট দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রভাবশালীদের বড় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেকেই এ অভিযানকে ‘লোক দেখানো’ বলে মন্তব্য করছেন।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের আগে কিছু ব্যবসায়ীকে আগাম সতর্ক করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত অবৈধ স্থাপনার বড় অংশ থেকেই যায় এবং উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, রেলওয়ের জমি রক্ষা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে শুধু ছোট দোকান নয়, প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধেও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এসব অভিযান কার্যকর ফল বয়ে আনবে না।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা স্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র বলেন, ‘রেললাইনের দুই পাশে যেসব স্থায়ী স্থাপনা রয়েছে, তার অনেকই রেলের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে অবস্থিত। তাই সেগুলো এখনই উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।’ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।