ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি কাজে নতুনদের সুযোগ, বদলাচ্ছে ঠিকাদার বাছাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসা কমছে ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর কক্সবাজারে নলকূপ খননে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, যা জানাল পেট্রোবাংলা বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য ঘর হারিয়েও গল্প বলা থামেনি তাঁদের

ঋণ শোধের পরও পাহাড়সম টাকার মামলা! মিঠাপুকুরে সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের মিঠাপুকুরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং অবৈধ দাদন ব্যবসার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগীদের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেলিম সরকার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তিনি বালুয়া বাজারে ‘মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘সাফল্য এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি অনিবন্ধিত ভূয়া এনজিও খুলে বসেন। এর মাধ্যমে তিনি সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্প নিতেন। পরবর্তীতে তিনি ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করার পরও চড়া সুদ দাবি করতেন এবং চেক-স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে আদালতে মিথ্যা মামলা দিতেন।

রাজু আহম্মেদ নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ১ লাখ ৫০০০০ ঋণ নিয়ে সঞ্চয়সহ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা শোধ করেছেন। কিন্তু সেলিম চৌধুরী তার স্বাক্ষর করা চেকে ইচ্ছামতো অংক বসিয়ে আদালতে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার মামলা দায়ের করেন।

আরেক ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দোকান পুড়ে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দৈনিক কিস্তিতপ ঋণ নিয়েছিলেন। ৭৩ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট টাকার জন্য তার নামে ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

ভূক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, সেলিম সরকারের ইন্ধনে বর্তমানে তারা একাধিক মিথ্যা মামলার ঘানি টানছেন এবং চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম চৌধুরী বলেন, আমি তাদের টাকা হাওলাত দিয়েছি। তবে এনজিও খুলে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ঋণ শোধের পরও পাহাড়সম টাকার মামলা! মিঠাপুকুরে সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জেল-জুলুম, নির্যাতন এবং অবৈধ দাদন ব্যবসার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগীদের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেলিম সরকার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তিনি বালুয়া বাজারে ‘মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘সাফল্য এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি অনিবন্ধিত ভূয়া এনজিও খুলে বসেন। এর মাধ্যমে তিনি সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্প নিতেন। পরবর্তীতে তিনি ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করার পরও চড়া সুদ দাবি করতেন এবং চেক-স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে আদালতে মিথ্যা মামলা দিতেন।

রাজু আহম্মেদ নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ১ লাখ ৫০০০০ ঋণ নিয়ে সঞ্চয়সহ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা শোধ করেছেন। কিন্তু সেলিম চৌধুরী তার স্বাক্ষর করা চেকে ইচ্ছামতো অংক বসিয়ে আদালতে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার মামলা দায়ের করেন।

আরেক ভুক্তভোগী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দোকান পুড়ে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দৈনিক কিস্তিতপ ঋণ নিয়েছিলেন। ৭৩ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট টাকার জন্য তার নামে ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

ভূক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, সেলিম সরকারের ইন্ধনে বর্তমানে তারা একাধিক মিথ্যা মামলার ঘানি টানছেন এবং চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম চৌধুরী বলেন, আমি তাদের টাকা হাওলাত দিয়েছি। তবে এনজিও খুলে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।