পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ও দলিতদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে : নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া ও দলিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটি নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ জন্য নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
তিনি বলেন, তবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।
তিনি আরও বলেন, আমি সংসদেও বলেছি সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। নির্বাচনের পরেও সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে এবং মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের শত্রুপক্ষ যারা বাংলাদেশবিরোধী এবং দেশের স্বার্থবিরোধী, তারা নানা উসকানি দেবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা চালাবে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে বাংলাদেশ। বাংলার মুসলমান, দলিত ও মতুয়া সম্প্রদায়সহ সবাইকে তাদের অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব নিতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ যারা নতুন করে দলে যোগদান করছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে একটি প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখব না। যে যেখান থেকেই আসুন না কেন, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
মোট কতজন সদস্য যোগদান করেছেন—এ প্রশ্নে এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য রিদুয়ান হৃদয় বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বিভিন্ন দলের দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান করেছেন।
এদিকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে হাইজ্যাক করেছে।
তিনি বলেন, সারাদেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতার কালবৈশাখী ঝড় বইছে, তখন প্রতিকূল পরিবেশেও চট্টগ্রামে আন্দোলনের বসন্ত ধরে রাখা হয়েছে। এজন্য তিনি চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, বিএনপি সরকারে আসার পর সংস্কারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও চট্টগ্রামের সন্তান ওয়াসিম যে স্বপ্নের জন্য রক্ত দিয়েছিলেন, বিএনপি আজ সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে কেন পিছিয়ে আসছে? বিএনপি আজ আওয়ামী লীগের দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গেছে।
বিএনপির বঞ্চিত নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা অর্থ, শ্রম ও জেল-জুলুম সহ্য করে দলটিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, তারা এখন বঞ্চিত ও ব্যথিত। তাদের অনেকেই বর্তমানে এনসিপিতে যোগ দিতে আগ্রহী।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যখনই ঢাকায় আন্দোলন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, চট্টগ্রাম থেকেই তা নতুন গতি পেয়েছে।

























