চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ বিরতিহীন ভাবে চলোমান
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মিছিল রোধে অবশেষে মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য এখনো ৪ লেন কিংবা ৬ লেন মহাসড়কের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা।
(৭ মে) বৃহস্পতিবার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের মিডার দোকান এলাকায় প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি মিডার দোকান পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্ত করা হচ্ছে।
জানা যায়, তিন ধাপে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে সাতকানিয়া রাস্তামাথা থেকে রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার ৪০০ মিটার এলাকায় কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন। দ্বিতীয় ধাপে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি মিডার দোকান পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ চলমান রয়েছে। আর তৃতীয় ধাপে চুনতি মিডার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রশস্তকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে এমএইচ কনস্ট্রাকশন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের উভয় পাশে ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলমান থাকলেও দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খানদীঘ এলাকার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট লামিস থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার আজিজ নগর সিটি গেট পর্যন্ত অংশকে দুর্ঘটনার “হটস্পট” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই অংশে চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, খানদীঘ, চুনতি ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সরু সড়ক, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমুখী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর মতে, শুধুমাত্র দুই পাশে সামান্য প্রশস্তকরণে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পুরো মহাসড়ককে অন্তত ৪ লেন কিংবা ৬ লেনে উন্নীত করা জরুরি। তারা মনে করছেন, দুর্ঘটনার হটস্পট এলাকাগুলোতে চার লেন নির্মাণের সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে।
এর আগে মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনসাধারণ, সামাজিক সংগঠন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, আমরা সঠিক নিয়ম মেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। জনভোগান্তি কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করছি, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব শিগগিরই সবাই দেখতে পাবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান প্রশস্তকরণ ও চার লেন নির্মাণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি কমবে দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

























