তেল নিয়ে তেলেসমাতি: সংবাদ সম্মেলনে নিজের গোমড় ফাঁস করলেন ব্যবসায়ী
- আপডেট সময় : ০১:১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের সংকটে যখন নাকাল সাধারণ মানুষ, ঠিক সেই সময়ই কারসাজির মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রে জড়িত রয়েছেন অসাধু কর্মকর্তা ও কতিপয় ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে উঠে আসে, পার্বতীপুর ডিপো থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার থানা গেট সংলগ্ন এক ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে। বলা হয়, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তিনি নিজ ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বিক্রি করেছেন।
এরই মধ্যে গতকাল ৫ মে বালিয়াডাঙ্গীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ আলীর ছেলে মোহাম্মদ সুমন নিজের কিছু অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেল হিসেবে ডিজেলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও পরবর্তী অংশে তিনি পেট্রোল ও অকটেন তিন দফা ক্রয়-বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন। এতে ধারণা জোরালো হয় যে, তিনি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের অনুরোধে তেল সংগ্রহ করেছেন। তবে কালোবাজার থেকে তেল কেনার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেলবাহী গাড়ির মালিকানা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছে, নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে একটি তেলবাহী গাড়ি সরাসরি আশরাফের দোকানে পৌঁছায়।
এদিকে ‘কাদের এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আশরাফ আলীর এক ভাগিনা পরিচালনা করেন। তবে অনুসন্ধানে নেকমরদ এলাকায় এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আবার সুমন স্বীকার করেছেন, এভিডেভিডের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে—যা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একই সঙ্গে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের বিষয়টিও সামনে এসেছে, যার উৎস সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে রাজশাহী অঞ্চলের ‘টুম্পা ট্রেডার্স’ নামেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ডিপো থেকে বরাদ্দকৃত তেল নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধেও।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর ‘কাদের এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে বরাদ্দকৃত তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট চক্রের কালোবাজারি কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

























