ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রনির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, সমালোচনার ঝড়
- আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। বিতর্কিত এই নেতাকে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো এক ‘অদৃশ্য প্রভাবের’ কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মো. আরিফুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সর্দার দিপু কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে রনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি হট্টগোল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর নাম ঘোষণা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে গালিগালাজ ও উত্তেজিত আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নলছিটির তেঁতুলবাড়িয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মল্লিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে। ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। এ ঘটনায় নলছিটি থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং পরে ঝালকাঠি দ্রুত বিচার আদালতে মামলা হয়, যেখানে রনি ৩ নম্বর আসামি হিসেবে ছিলেন।
এছাড়া নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একটি কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দাবি, দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এবং আদালত মামলা খারিজ করে দিয়েছে। বাকি সব অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।
বিতর্কিত এসব ঘটনার পরও তাকে জেলা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির ভেতরে অস্বস্তি ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

























