জনবল সংকটে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর, চিঠি-পার্সেল বিতরণে ধীরগতি
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘর দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিঠি ও পার্সেল বিতরণ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সরকারি এই ডাকঘর একসময় চিঠিপত্র ও পার্সেল আদান-প্রদানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে জনবল ঘাটতি, সীমিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়ার কারণে সেবার মান কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরে মোট ১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে পোস্টমাস্টার ১ জন, পোস্টাল অপারেটর ৫ জন, পেকার ১ জন ও এমএলএসএস ১ জন। বাকি ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে পোস্টম্যানের ৬টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ডাক বিতরণ কার্যক্রম।
চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে কোনো পোস্টম্যান না থাকায় প্রতিদিন আসা প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চিঠি ও পার্সেল সময়মতো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত জনবল দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘পোস্টম্যান না থাকায় ডাকঘরের মূল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমএলএসএস দিয়ে আপাতত কোনোভাবে চিঠি বিতরণ করা হচ্ছে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।’
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে শত শত চিঠি ও পার্সেল আসছে, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো যথাসময়ে বিতরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে সেবার ধীরগতির কারণে অনেক গ্রাহক এখন বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের দিকে ঝুঁকছেন। দ্রুত ডেলিভারি ও উন্নত সেবার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, জরুরি কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ চিঠি সময়মতো না পাওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে সরকারি ডাকসেবার প্রতি নির্ভরতা কমে যাচ্ছে।
ডাকঘর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত জনবল নিয়োগ, আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ছাড়া ডাক বিভাগের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

























