ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইবান্ধায় নারীকে পথরোধ করে টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ২ বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবাদী জমি দখলের অভিযোগ প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা গনি হত্যার ১৫ বছর, বিচারহীনতায় কাটছে দিন বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ২০ বসতঘর ছাই অনলাইন পোর্টালের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা, কথিত সাংবাদিকসহ গ্রেফতার ৫ সুনামগঞ্জে দুইদিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার রচিত ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন সুন্দরগঞ্জে কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু

চোখের পলকে ডুবল স্বপ্নের ফসল, হাওরজুড়ে ভয়াবহ ক্ষতি ও কৃষকদের হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 হাওরাঞ্চলের আকাশে এখন আর উৎসব নেই, আছে শুধু উদ্বেগ আর নীরব কান্না। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে দেশের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় বোরো ধান ডুবে গেছে। মাঠে মাঠে এখন পাকা ধান নয়, ভাসছে কৃষকের বছরের পর বছরের স্বপ্ন।

কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র। কোথাও কৃষক কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কোথাও আবার শ্রমিকরা নৌকায় করে কাটা ধান তুলে আনছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময় আর সুযোগ কোনোটাই নেই।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী শুধু কিশোরগঞ্জেই কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বাস্তব ক্ষতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সার্বিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাওরের কৃষকদের অনেকেই এবার ঋণ করে আবাদ করেছিলেন। বোরো ধানই ছিল তাদের সারা বছরের ভরসা। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় সেই ফসল এখন অনেকের চোখের সামনে শেষ হয়ে গেছে।

একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘যা ছিল সব ভেসে গেছে। এখন শুধু চিন্তা, এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, সংসার কীভাবে চালাব।’

হাওরের বিভিন্ন খলায় শুকানোর জন্য রাখা ধানও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শ্রমিক সংকট, টানা বৃষ্টি এবং পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক ধান কেটে ঘরে তুলতেই পারেননি।

কৃষি বিভাগ বলছে, কিছু এলাকায় রোদ ওঠায় পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অনেক নিচু জমিতে পানি এখনো রয়ে গেছে। যেসব জমির ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে, সেগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি নামতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে দ্রুত ধান না তুলতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

হাওরের এই পরিস্থিতি কৃষকদের জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক পরিবার এখন শুধু ফসল হারানোর শোকেই নয়, সামনে কীভাবে বাঁচবে সেই দুশ্চিন্তায় ভুগছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরের এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। পানি ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত ফসল উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

চোখের পলকে ডুবল স্বপ্নের ফসল, হাওরজুড়ে ভয়াবহ ক্ষতি ও কৃষকদের হাহাকার

আপডেট সময় : ০২:০৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 হাওরাঞ্চলের আকাশে এখন আর উৎসব নেই, আছে শুধু উদ্বেগ আর নীরব কান্না। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে দেশের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় বোরো ধান ডুবে গেছে। মাঠে মাঠে এখন পাকা ধান নয়, ভাসছে কৃষকের বছরের পর বছরের স্বপ্ন।

কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় একই চিত্র। কোথাও কৃষক কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কোথাও আবার শ্রমিকরা নৌকায় করে কাটা ধান তুলে আনছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময় আর সুযোগ কোনোটাই নেই।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী শুধু কিশোরগঞ্জেই কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বাস্তব ক্ষতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সার্বিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাওরের কৃষকদের অনেকেই এবার ঋণ করে আবাদ করেছিলেন। বোরো ধানই ছিল তাদের সারা বছরের ভরসা। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় সেই ফসল এখন অনেকের চোখের সামনে শেষ হয়ে গেছে।

একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘যা ছিল সব ভেসে গেছে। এখন শুধু চিন্তা, এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, সংসার কীভাবে চালাব।’

হাওরের বিভিন্ন খলায় শুকানোর জন্য রাখা ধানও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শ্রমিক সংকট, টানা বৃষ্টি এবং পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক ধান কেটে ঘরে তুলতেই পারেননি।

কৃষি বিভাগ বলছে, কিছু এলাকায় রোদ ওঠায় পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অনেক নিচু জমিতে পানি এখনো রয়ে গেছে। যেসব জমির ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে, সেগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি নামতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে দ্রুত ধান না তুলতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

হাওরের এই পরিস্থিতি কৃষকদের জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক পরিবার এখন শুধু ফসল হারানোর শোকেই নয়, সামনে কীভাবে বাঁচবে সেই দুশ্চিন্তায় ভুগছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওরের এই পুনরাবৃত্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। পানি ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত ফসল উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।