ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে দাদীকে হত্যায় নাতিসহ গ্রেফতার ৩

দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা অলেদা বেওয়া (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন নাতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘোড়াঘাট থানার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলার পুরইল গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে মো. ফজলে রাব্বী (২৯), দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকার মো. মুসফিকুর রহমান রাজ (৩৮) এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও নিহতের আপন নাতি মো. নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের হার, এক জোড়া বালা, চেইন, কানের দুল, ঝুমকা এবং এক জোড়া রুপার নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় ডুগডুগি বাজারে বসে তারা এ হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় রাব্বী জানায়, তার দাদীর বাড়িতে প্রচুর স্বর্ণালংকার রয়েছে এবং দিনের বেলায় তিনি বাড়িতে একাই থাকেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তারা হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি করে।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। নাজমুল হুদা শান্ত বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল এবং রাব্বী ও রাজ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় অলেদা বেওয়া ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুট করার সময় বৃদ্ধা জেগে উঠলে তাকে মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে বৃদ্ধা গোঙাতে শুরু করলে শান্তকেও ঘরের ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তিনজন মিলে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে রাজকে গোকুল নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শান্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং সর্বশেষ রাব্বীকে সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

দিনাজপুরে দাদীকে হত্যায় নাতিসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা অলেদা বেওয়া (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন নাতিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘোড়াঘাট থানার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঘোড়াঘাট উপজেলার পুরইল গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে মো. ফজলে রাব্বী (২৯), দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকার মো. মুসফিকুর রহমান রাজ (৩৮) এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও নিহতের আপন নাতি মো. নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের হার, এক জোড়া বালা, চেইন, কানের দুল, ঝুমকা এবং এক জোড়া রুপার নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় ডুগডুগি বাজারে বসে তারা এ হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় রাব্বী জানায়, তার দাদীর বাড়িতে প্রচুর স্বর্ণালংকার রয়েছে এবং দিনের বেলায় তিনি বাড়িতে একাই থাকেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তারা হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি করে।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। নাজমুল হুদা শান্ত বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল এবং রাব্বী ও রাজ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। সে সময় অলেদা বেওয়া ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুট করার সময় বৃদ্ধা জেগে উঠলে তাকে মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে বৃদ্ধা গোঙাতে শুরু করলে শান্তকেও ঘরের ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তিনজন মিলে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে রাজকে গোকুল নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শান্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে এবং সর্বশেষ রাব্বীকে সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।