বৈরী আবহাওয়ায় তীব্র শ্রমিক সংকট, ধান কাটতে হিমশিম কৃষক
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি হাজার টাকার বেশি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে অনেক স্থানে পাকা ধান সময়মতো কাটতে না পারায় মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৯ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ শতাংশ ফসল কাটা সম্ভব হয়েছে। ধান কাটার কাজে কৃষি অফিসের সরবরাহ করা ১১টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এলাকায় টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে ধান শুকানোর সুযোগও কমে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনমজুর শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে নতুন ধানের বাজারদর মণপ্রতি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ত্রিশ কাঠা জমির ধান কেটে আইলে রেখেছি, কিন্তু শ্রমিক সংকটে ঘরে তুলতে পারছি না। বৃষ্টিতে ধান ভিজছে, শ্রমিক ও মাড়াই যন্ত্রও পাওয়া যাচ্ছে না।’
আরেক কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের যে দাম, তাতে এত বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটলে লাভ তো নেইই, খরচই উঠবে না। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে কিছু এলাকায় কৃষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীরাও মাঠে নেমে পরিবারকে সহায়তা করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিক সংকট, বাড়তি মজুরি, সেচ ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ত্রিমুখী চাপে পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।




















