পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সংসদে ক্ষোভ জানালেন জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

সংসদ অধিবেশনে নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সংশ্লিষ্ট অংশ এক্সপাঞ্জ (মুছে ফেলা) করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াত আমির।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই—মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সম্পর্কে বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে অন্য কারও অবদানকে খাটো করার অধিকার কারও নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বলে থাকি যে আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে আমি কোন রাজনৈতিক দল করব?
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করবো বা কোন আদর্শ অনুসরণ করবো—এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি গুরুতর বিষয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি অনুরোধ করব তার বক্তব্যের অসংসদীয় অংশটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক।
তিনি আরও বলেন, সংসদকে কার্যকর রাখতে জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং প্রস্তাব এলে তা গ্রহণও করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদে ভালো কিছু শিখতে ও গঠনমূলক আলোচনা করতে এসেছি। কাউকে আঘাত করা বা গালি দেওয়ার মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যায় না। এতে সাময়িক গলাবাজি হতে পারে, কিন্তু দেশের জন্য ইতিবাচক ফল আসে না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায় তখন মাথা গরম হয়ে যায়। একটি প্রবাদ আছে—রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যেতে চাই। যুক্তি ও সত্যের ভিত্তিতে কথা বললে সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।




















