ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রীড়া কার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত খেলোয়াড়রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশের কৃতী খেলোয়াড়রা এবার সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আসছেন।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেন। এর মাধ্যমে প্রত্যেক খেলোয়াড় মাসিক এক লাখ টাকা করে সম্মানী পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উদ্বোধনও করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০টি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় এই সুবিধার আওতায় এসেছেন এবং মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০০ খেলোয়াড়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে সাফজয়ী নারী ফুটসাল দল, কাবাডি, ভলিবল, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সেপাক টাকরো এবং প্যারা-অ্যাথলেটরা। তবে স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই কাঠামোর বাইরে থাকছেন।

ভাতা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন, এটি যেমন গর্বের, তেমনি পারফরম্যান্স ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও। তার মতে, এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের পেশা হিসেবে খেলাধুলা বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।

ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় উর্মি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ভাতা পাওয়া এক অনন্য অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই সাই মারমা জানান, মাসিক ভাতার বিষয়টি ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় প্রাপ্তি। পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ন হওয়ায় প্রতিযোগিতাও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এশিয়া কাপ আরচারিতে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, আর্থিক নিরাপত্তা থাকলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি খেলাধুলায় আগ্রহী হবে।

এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, প্যারা-অ্যাথলেটদের কষ্ট ও সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়া কার্ড একটি শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ক্রীড়া কার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত খেলোয়াড়রা

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশের কৃতী খেলোয়াড়রা এবার সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আসছেন।

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেন। এর মাধ্যমে প্রত্যেক খেলোয়াড় মাসিক এক লাখ টাকা করে সম্মানী পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উদ্বোধনও করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০টি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় এই সুবিধার আওতায় এসেছেন এবং মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০০ খেলোয়াড়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে সাফজয়ী নারী ফুটসাল দল, কাবাডি, ভলিবল, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সেপাক টাকরো এবং প্যারা-অ্যাথলেটরা। তবে স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই কাঠামোর বাইরে থাকছেন।

ভাতা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন, এটি যেমন গর্বের, তেমনি পারফরম্যান্স ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও। তার মতে, এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের পেশা হিসেবে খেলাধুলা বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।

ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় উর্মি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ভাতা পাওয়া এক অনন্য অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই সাই মারমা জানান, মাসিক ভাতার বিষয়টি ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় প্রাপ্তি। পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ন হওয়ায় প্রতিযোগিতাও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এশিয়া কাপ আরচারিতে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, আর্থিক নিরাপত্তা থাকলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি খেলাধুলায় আগ্রহী হবে।

এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, প্যারা-অ্যাথলেটদের কষ্ট ও সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়া কার্ড একটি শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।