ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাচ্ছেতাই নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কোনোভাবেই দেশে একটি যাচ্ছেতাই নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে তারা অনেক আগেই রাজপথে নেমেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হয়, তবে আবার আন্দোলনে নামতে তারা প্রস্তুত। তার ভাষায়, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার।”

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে নানা ধরনের ফাঁকফোকর খোঁজা হচ্ছে। তিনি জানান, ইসির আপিল শুনানির শেষ দিন রোববারকে এনসিপি ‘রেডলাইন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও নামবে।

কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কোনো বিদেশি বা দ্বৈত নাগরিককে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রার্থী শত শত লোক ও আইনজীবী নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, কমিশনের ভেতরে যুক্তিতর্ক ও কৌশলের মাধ্যমে অবৈধ প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের জন্য ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনমুখী বিএনপির কিছু নেতারও সমালোচনা করেন। তার মতে, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক বলে দাবি করে, তারাই এখন সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাড়াহুড়া না করে সময় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কিছুটা দেরি হলেও একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

যাচ্ছেতাই নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০৮:২০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কোনোভাবেই দেশে একটি যাচ্ছেতাই নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে তারা অনেক আগেই রাজপথে নেমেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হয়, তবে আবার আন্দোলনে নামতে তারা প্রস্তুত। তার ভাষায়, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার।”

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে নানা ধরনের ফাঁকফোকর খোঁজা হচ্ছে। তিনি জানান, ইসির আপিল শুনানির শেষ দিন রোববারকে এনসিপি ‘রেডলাইন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও নামবে।

কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কোনো বিদেশি বা দ্বৈত নাগরিককে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রার্থী শত শত লোক ও আইনজীবী নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, কমিশনের ভেতরে যুক্তিতর্ক ও কৌশলের মাধ্যমে অবৈধ প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের জন্য ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনমুখী বিএনপির কিছু নেতারও সমালোচনা করেন। তার মতে, যারা নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক বলে দাবি করে, তারাই এখন সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাড়াহুড়া না করে সময় নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে কিছুটা দেরি হলেও একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।