বিএনপির মনোনয়ন বিরোধে গফরগাঁও অগ্নিগর্ভ, রেললাইন-সড়ক অবরোধে ট্রেন চলাচল বন্ধ
- আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনসহ অন্তত ৩০টি পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের গফরগাঁও স্টেশনে স্টেশন মাস্টারসহ কর্মকর্তাদের কক্ষের বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় স্টেশনের কম্পিউটার সিস্টেম, সিগনাল লাইট ও সংযোগ লাইনের বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি রেললাইনের স্লিপার তুলে নেওয়ায় লাইনচ্যুত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে বিকাল ৩টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আন্দোলনকারীরা সরে গেলেও ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হানিফ জানান, রাত ১টা ২০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার গফরগাঁও স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আখতারুজ্জামান বাচ্চু মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি শনিবার বিকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র প্রকাশ করেন। এর পরই মনোনয়ন বঞ্চিত বলে দাবি করা এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের সমর্থকরা বিক্ষোভে নামেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা রেললাইন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন। এতে গফরগাঁও–ভালুকা, গফরগাঁও–কিশোরগঞ্জ, নান্দাইল ও ত্রিশালমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি স্থানে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ফলে গফরগাঁও কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পৌর শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চেয়েছেন।
রেলপথ অবরোধের কারণে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, যমুনা এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের দাবি, এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনে বিএনপির ভরাডুবি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি এবি সিদ্দিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘অগ্নিসংযোগ ও সড়ক-রেলপথ অবরোধের কারণে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।’
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস জানান, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীও সহায়তা করছে।


















