ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের নিরাপত্তা বহরের চাপে মহাসড়কে তীব্র যানজট

গাড়িতেই সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় স্মৃতিসৌধ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা–নবীনগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকামুখী হাজার হাজার যাত্রী।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যানজটের সূত্রপাত হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

অপরদিকে সন্ধ্যা ৬টার পর গোড়াই মির্জাপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ধীরে ধীরে এই যানজট অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়কে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় দেখা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলো তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একই স্থানে আটকে আছে। অনেক যাত্রী যানজটে নাজেহাল হয়ে বাস থেকে নেমে ব্যাগপত্র নিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। কেউ কেউ আবার গাড়ির ভেতর বসে গল্পগুজবে সময় কাটাচ্ছেন।

উত্তরাঞ্চল থেকে আসা আব্দুল হাই নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এখানে আটকে আছি। গাড়ি পিঁপড়ার মতো একটু চলে আবার আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। কেন এই যানজট, কিছুই বুঝতে পারছি না। দেশে কি আইন-শৃঙ্খলা নেই?’

প্রাইভেট কার চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় মহাসড়কে এমন তীব্র যানজটের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছি না। হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ২ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। কোথাও একটা ট্রাফিক পুলিশও চোখে পড়েনি।’

পিকআপ চালক রাব্বি হোসেন বলেন, ‘গোড়াই থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত আসতেই আমার দুই ঘণ্টা লেগেছে। গাড়িতে তিনটা গরু বোঝাই। পুলিশ নেই, সবাই এলোমেলোভাবে গাড়ি থামিয়ে রেখেছে। এমন দুর্ভোগ কেন বুঝতে পারছি না।’

যানজটের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেছে। কালিয়াকৈর থানার পাশের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে আমার ভাতিজিকে সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কালিয়াকৈর থেকে চন্দ্রা যাওয়ার পথে ভয়াবহ যানজটে পড়ি। একপর্যায়ে তার তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয় এবং গাড়িতেই সন্তান প্রসব হয়। পরে অনেক কষ্টে সফিপুর তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি।’

এ বিষয়ে গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) শাহাবউদ্দিনের সরকারি নম্বরেও কল করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

   

তারেক রহমানের নিরাপত্তা বহরের চাপে মহাসড়কে তীব্র যানজট

গাড়িতেই সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি মা

আপডেট সময় : ০৩:০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় স্মৃতিসৌধ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা–নবীনগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকামুখী হাজার হাজার যাত্রী।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যানজটের সূত্রপাত হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

অপরদিকে সন্ধ্যা ৬টার পর গোড়াই মির্জাপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ধীরে ধীরে এই যানজট অন্তত ৩০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়কে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় দেখা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলো তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একই স্থানে আটকে আছে। অনেক যাত্রী যানজটে নাজেহাল হয়ে বাস থেকে নেমে ব্যাগপত্র নিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। কেউ কেউ আবার গাড়ির ভেতর বসে গল্পগুজবে সময় কাটাচ্ছেন।

উত্তরাঞ্চল থেকে আসা আব্দুল হাই নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এখানে আটকে আছি। গাড়ি পিঁপড়ার মতো একটু চলে আবার আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। কেন এই যানজট, কিছুই বুঝতে পারছি না। দেশে কি আইন-শৃঙ্খলা নেই?’

প্রাইভেট কার চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় মহাসড়কে এমন তীব্র যানজটের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছি না। হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ২ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। কোথাও একটা ট্রাফিক পুলিশও চোখে পড়েনি।’

পিকআপ চালক রাব্বি হোসেন বলেন, ‘গোড়াই থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত আসতেই আমার দুই ঘণ্টা লেগেছে। গাড়িতে তিনটা গরু বোঝাই। পুলিশ নেই, সবাই এলোমেলোভাবে গাড়ি থামিয়ে রেখেছে। এমন দুর্ভোগ কেন বুঝতে পারছি না।’

যানজটের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেছে। কালিয়াকৈর থানার পাশের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে আমার ভাতিজিকে সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কালিয়াকৈর থেকে চন্দ্রা যাওয়ার পথে ভয়াবহ যানজটে পড়ি। একপর্যায়ে তার তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয় এবং গাড়িতেই সন্তান প্রসব হয়। পরে অনেক কষ্টে সফিপুর তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি।’

এ বিষয়ে গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) শাহাবউদ্দিনের সরকারি নম্বরেও কল করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।