ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

সিলেট ব্যুরো অফিস
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা, রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়, ফরিদপুরের আশুলিয়ায় কলেজ শিক্ষক উৎপল সরকার, নরসিংদীর রায়পুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রাণতোষ কর্মকার হত্যাসহ চলতি বছরে দেশব্যাপী সংঘটিত অর্ধশতের বেশি হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, কথিত ধর্ম অবমাননার দায়ে গ্রেপ্তার এবং আদিবাসীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা সিলেট জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয়কৃষ্ণ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষের পরিচালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ চন্দ্র পাল, পূজা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য সুব্রত দেব, পূজা পরিষদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এপেক্সিয়ান চন্দন দাস, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিকুম নিঝুম সাংমা, মহানগর পূজা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ কুমার বিশ্বাস এবং শাহপরান থানা সভাপতি বিরেশ দেবনাথ।

একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট মহানগরের সদস্য-সচিব রাজিব দে রাজু, সিলেট মহালয়া উদযাপন পরিষদের সভাপতি জি ডি রুমু, শ্রীহট্ট ইসকনের পক্ষে বলদেব কৃপা দাসসহ আরও অনেকে।

বক্তারা দিপু চন্দ্র দাসসহ অতীতের সকল সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। তারা কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সকল হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্মীয় উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও লুটপাটের ঘটনায় বিগত কোনো সরকার কার্যকর প্রতিকার গ্রহণ না করায় এসব নৃশংস ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে এবং সারা দেশে এক ধরনের উন্মত্ততায় রূপ নিয়েছে।

সমাবেশ থেকে এসব মানবতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার দাবি জানানো হয় এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্ম অবমাননার শাস্তি সংক্রান্ত আইন থাকলেও মিথ্যা অভিযোগ ও মব সৃষ্টি করে নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই। তাই মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগকারী ও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করে আইন সংশোধন অথবা পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ১০ জন খুনিকে গ্রেপ্তার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তারা গ্রেপ্তারকৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী দিপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা, রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়, ফরিদপুরের আশুলিয়ায় কলেজ শিক্ষক উৎপল সরকার, নরসিংদীর রায়পুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রাণতোষ কর্মকার হত্যাসহ চলতি বছরে দেশব্যাপী সংঘটিত অর্ধশতের বেশি হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা, কথিত ধর্ম অবমাননার দায়ে গ্রেপ্তার এবং আদিবাসীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা সিলেট জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয়কৃষ্ণ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষের পরিচালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ চন্দ্র পাল, পূজা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সদস্য সুব্রত দেব, পূজা পরিষদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এপেক্সিয়ান চন্দন দাস, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিকুম নিঝুম সাংমা, মহানগর পূজা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ কুমার বিশ্বাস এবং শাহপরান থানা সভাপতি বিরেশ দেবনাথ।

একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট মহানগরের সদস্য-সচিব রাজিব দে রাজু, সিলেট মহালয়া উদযাপন পরিষদের সভাপতি জি ডি রুমু, শ্রীহট্ট ইসকনের পক্ষে বলদেব কৃপা দাসসহ আরও অনেকে।

বক্তারা দিপু চন্দ্র দাসসহ অতীতের সকল সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। তারা কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সকল হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্মীয় উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও লুটপাটের ঘটনায় বিগত কোনো সরকার কার্যকর প্রতিকার গ্রহণ না করায় এসব নৃশংস ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে এবং সারা দেশে এক ধরনের উন্মত্ততায় রূপ নিয়েছে।

সমাবেশ থেকে এসব মানবতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার দাবি জানানো হয় এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্ম অবমাননার শাস্তি সংক্রান্ত আইন থাকলেও মিথ্যা অভিযোগ ও মব সৃষ্টি করে নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই। তাই মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগকারী ও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করে আইন সংশোধন অথবা পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ১০ জন খুনিকে গ্রেপ্তার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তারা গ্রেপ্তারকৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।