ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

মহাকাশ গবেষণায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মিশন পাঠানোর পর এবার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এ পরিকল্পনার আওতায় সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ২০২৮ সালে নির্ধারিত এই মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে গ্রহাণুর গঠন ও সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে মহাকাশযান ব্যবহার করা হবে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমবিআর এক্সপ্লোরার’। এটি ২০২৮ সালের মার্চে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে অবস্থিত সাতটি আলাদা গ্রহাণু পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত এই মহাকাশযান সঠিক গতিপথ অর্জনের জন্য ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র গ্রহ এবং ২০২৯ সালের বসন্তে পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে। প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে পৌঁছানোর পর এটি একে একে ১০২৫৩ ভেস্টারওয়াল্ড, ৬২৩ কাইমেরা ও ১৩২৯৪ রকলক্স গ্রহাণুগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গিয়ে এটি ৮৮০৫৫ ঘাফ, ২৩৮৭১ ওউশা ও ৫৯৯৮০ মোজা গ্রহাণুতে পৌঁছাবে।

এই মিশনের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীর মাঝখানে অবস্থিত ২৬৯ জাস্টটিয়া গ্রহাণু। পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত এই গন্তব্যে ২০৩৪ সাল নাগাদ পৌঁছানো যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমবিআর এক্সপ্লোরার সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় সাত মাস ধরে গ্রহাণুকে প্রদক্ষিণ করবে। এরপর এটি একটি ল্যান্ডার নামানোর চেষ্টা করবে, যা মহাকাশ শিলার গঠন বিশ্লেষণ করবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহাণু নেপচুনের বাইরে কাইপার বেল্টে গঠিত হয়েছিল। গ্রহগুলোর জন্মলগ্নে সৌরজগতে পানি ও অন্যান্য জৈবিক উপাদান কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এই গ্রহাণু।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ সালে দেশটি একটি প্রোব সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল, যা ২০২১ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে। দেশের অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে সরিয়ে আনতে এবং বিকল্প প্রযুক্তি খাত গড়ে তুলতে এই মহাকাশ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মহাকাশ গবেষণায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মিশন পাঠানোর পর এবার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এ পরিকল্পনার আওতায় সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ২০২৮ সালে নির্ধারিত এই মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে গ্রহাণুর গঠন ও সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে মহাকাশযান ব্যবহার করা হবে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমবিআর এক্সপ্লোরার’। এটি ২০২৮ সালের মার্চে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে অবস্থিত সাতটি আলাদা গ্রহাণু পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত এই মহাকাশযান সঠিক গতিপথ অর্জনের জন্য ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র গ্রহ এবং ২০২৯ সালের বসন্তে পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে। প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে পৌঁছানোর পর এটি একে একে ১০২৫৩ ভেস্টারওয়াল্ড, ৬২৩ কাইমেরা ও ১৩২৯৪ রকলক্স গ্রহাণুগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গিয়ে এটি ৮৮০৫৫ ঘাফ, ২৩৮৭১ ওউশা ও ৫৯৯৮০ মোজা গ্রহাণুতে পৌঁছাবে।

এই মিশনের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীর মাঝখানে অবস্থিত ২৬৯ জাস্টটিয়া গ্রহাণু। পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত এই গন্তব্যে ২০৩৪ সাল নাগাদ পৌঁছানো যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমবিআর এক্সপ্লোরার সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় সাত মাস ধরে গ্রহাণুকে প্রদক্ষিণ করবে। এরপর এটি একটি ল্যান্ডার নামানোর চেষ্টা করবে, যা মহাকাশ শিলার গঠন বিশ্লেষণ করবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহাণু নেপচুনের বাইরে কাইপার বেল্টে গঠিত হয়েছিল। গ্রহগুলোর জন্মলগ্নে সৌরজগতে পানি ও অন্যান্য জৈবিক উপাদান কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এই গ্রহাণু।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ সালে দেশটি একটি প্রোব সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল, যা ২০২১ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে। দেশের অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে সরিয়ে আনতে এবং বিকল্প প্রযুক্তি খাত গড়ে তুলতে এই মহাকাশ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।