ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

সন্তানের বন্ধু নির্বাচন: নৈতিকতার বিচার নাকি আচরণের মূল্যায়ন?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ উক্ত অনুষ্ঠান থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

ছোটবেলা থেকেই আমরা সন্তানদের শিখাই ‘ভালো বন্ধু’ বেছে নিতে এবং ‘খারাপ বন্ধু’ এড়িয়ে চলতে। মানসিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের ট্যাগিং বা নির্দেশনা কতটা যুক্তিযুক্ত?

এর উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল জানান, ‘মানসিক স্বাস্থ্য ও শিশু-কিশোর মনস্তত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে—‘ভালো বন্ধু’ বা ‘খারাপ বন্ধু’—এই দুটো শব্দ নৈতিকতার বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো কোনো বিষয় নয়। প্রতিটি শিশুই ভালো, প্রতিটি সন্তানই সুন্দর; জন্মগতভাবে কারো ভেতরে খারাপ কিছু থাকে না। আমরা যখন খুব সহজে সন্তানের কোনো বন্ধুকে ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করি, তখন আমরা অজান্তেই সেই শিশুটির ওপর এক ধরনের সামাজিক তকমা বা ‘ট্যাগ’ বসিয়ে দিই, যা তার মানসিক বিকাশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের মূল নজর দেওয়া উচিত আচরণের বৈশিষ্ট্যের ওপর। বন্ধুদের যেসব গুণ বা আচরণ অনুকরণীয় ও ইতিবাচক, সেগুলো গ্রহণ করতে হবে। আর যে আচরণগুলো ক্ষতিকর, সেগুলোকে পরিহার করতে হবে। তবে কোনো বন্ধুর আচরণ অপছন্দ হলে তাকে সরাসরি ‘বাতিল’ বা বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া সঠিক সমাধান নয়। বরং অভিভাবক ও সন্তান—উভয়ের দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই বন্ধুকে সেই ক্ষতিকর বা অনুপযোগী আচরণ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সন্তানের বন্ধু নির্বাচন: নৈতিকতার বিচার নাকি আচরণের মূল্যায়ন?

আপডেট সময় : ১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ উক্ত অনুষ্ঠান থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

ছোটবেলা থেকেই আমরা সন্তানদের শিখাই ‘ভালো বন্ধু’ বেছে নিতে এবং ‘খারাপ বন্ধু’ এড়িয়ে চলতে। মানসিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের ট্যাগিং বা নির্দেশনা কতটা যুক্তিযুক্ত?

এর উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল জানান, ‘মানসিক স্বাস্থ্য ও শিশু-কিশোর মনস্তত্ত্বের দিক থেকে বিচার করলে—‘ভালো বন্ধু’ বা ‘খারাপ বন্ধু’—এই দুটো শব্দ নৈতিকতার বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো কোনো বিষয় নয়। প্রতিটি শিশুই ভালো, প্রতিটি সন্তানই সুন্দর; জন্মগতভাবে কারো ভেতরে খারাপ কিছু থাকে না। আমরা যখন খুব সহজে সন্তানের কোনো বন্ধুকে ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করি, তখন আমরা অজান্তেই সেই শিশুটির ওপর এক ধরনের সামাজিক তকমা বা ‘ট্যাগ’ বসিয়ে দিই, যা তার মানসিক বিকাশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের মূল নজর দেওয়া উচিত আচরণের বৈশিষ্ট্যের ওপর। বন্ধুদের যেসব গুণ বা আচরণ অনুকরণীয় ও ইতিবাচক, সেগুলো গ্রহণ করতে হবে। আর যে আচরণগুলো ক্ষতিকর, সেগুলোকে পরিহার করতে হবে। তবে কোনো বন্ধুর আচরণ অপছন্দ হলে তাকে সরাসরি ‘বাতিল’ বা বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া সঠিক সমাধান নয়। বরং অভিভাবক ও সন্তান—উভয়ের দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই বন্ধুকে সেই ক্ষতিকর বা অনুপযোগী আচরণ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা।’