ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

১৩ বছরের সাঁতারুর এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জেতার হ্যাটট্রিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ান গেমসে তিনটি স্বর্ণ জিতে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে ১৩ বছর বয়সী চীনা মেয়ে সাঁতারু ইউ জিদি। সে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই, ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে প্রথম হয়েছে। মেডলি সাঁতার হলো সাঁতারের এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে একজন সাঁতারু বা একটি দল নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করতে চারটি ভিন্ন সাঁতারের ধরন ব্যবহার করেন। নিজের সেরাটা দেখিয়ে সাঁতারের এই তিনটি কঠিন প্রতিযোগিতা জিতেছে সে।

চীনের এই কিশোরী শুরু থেকেই নিজের ছন্দে সাঁতার কেটে ৪ মিনিট ২৮.৫৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। ২০১৪ সালের পুরোনো রেকর্ডটি প্রায় ৪.৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙে দেয়। চলতি বছরে এটি বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম সময়। এ বছরে শুধু কানাডার বিশ্ব রেকর্ডধারী সামার ম্যাকিনটশই তার চেয়ে কম সময়ে এই সাঁতার শেষ করেছেন।

প্রতিযোগিতায় ইউ তারই দেশের কে ওয়েনক্সির চেয়ে ৩.৯৫ সেকেন্ড এগিয়ে থেকে প্রথম হয়। ওয়েনক্সি রৌপ্যপদক পায় এবং জাপানের মিও নারিটা ব্রোঞ্জ জেতে।

ইউ জিদির সাঁতার দেখে এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন দেশের সাঁতারুরা বেশ প্রশংসা করছেন। তাঁদের মতে, সাঁতারের এই নতুন প্রতিভা খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বমঞ্চ জয় করবে। ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অলিম্পিক খেলা হবে। সেখানে সে সেরা সাঁতারুদের একজন হতে পারে। অলিম্পিকে কানাডার তারকা সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। কারণ, সামারও ইউ জিদির মতো একই ইভেন্টগুলোতে সাঁতার কাটে।

একইভাবে ২০২৭ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপেও এই দুই তরুণ সাঁতারুর মুখোমুখি হওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। কানাডার সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশের বয়স এখন ২০ বছর। তিনি অলিম্পিকে তিনবার স্বর্ণ জিতেছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে আটবার ও কমনওয়েলথ গেমসে দুবার স্বর্ণ পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাঁর।

ইউ জিদি যেসব ইভেন্টে সাঁতার কাটে, সেগুলোতে কানাডার তারকা সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশই সেরা। সে মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই সাঁতারের বিশ্বমঞ্চে সাঁতার কাটছে। ইউ জিদির তিনটি মূল ইভেন্টেই তাঁর বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। এই তিন ইভেন্ট হলো ২০০ মিটার বাটারফ্লাই (২ মিনিট ১.৬৫ সেকেন্ড), ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি (২ মিনিট ৫.৭০ সেকেন্ড) এবং ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি (৪ মিনিট ২৩.৬৫ সেকেন্ড)।

তবে ইউ জিদি খুব দ্রুতই সেই বিশ্ব রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে সে ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি সাঁতার শেষ করে মাত্র ২ মিনিট ৬.১০ সেকেন্ডে। অর্থাৎ এই ইভেন্টে সে ম্যাকিনটশের রেকর্ডের একেবারেই কাছাকাছি রয়েছে।

১২ বছর বয়সের হিসাব করলে দেখা যায়, ম্যাকিনটশ ওই বয়সে যা করেছিলেন, ইউ তাঁর চেয়ে অনেক দ্রুত সাঁতার কেটেছিল। ওই বয়সে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে ইউ প্রায় ১৫ সেকেন্ড এবং ২০০ মিটারে প্রায় ১২ সেকেন্ড দ্রুত সাঁতার শেষ করেছিল। ৫০ মিটারের পুলে ১২ থেকে ১৫ সেকেন্ডের সময় মানে প্রায় অর্ধেকটা পুলের ব্যবধান।

নিজের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ইউ জিদি হয়তো একটির পর একটি নতুন রেকর্ড গড়বে। সে অন্য দূরত্বের সাঁতারে অংশ নিলে সেখানেও রেকর্ড ভাঙতে পারে। তবে সামার ম্যাকিনটশ বা অন্য প্রতিযোগীরা তাঁকে সহজে ছেড়ে দেবেন না।

মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন ইউ। ওই ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার বয়সেই সে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়। সেখানে তার তিনটি সাঁতারেই খুব অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয় এবং সে ৪ নম্বরে থেকে শেষ করে। তবে একটি রিলে ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল তার দল। যদিও ফাইনালে সে নিজে নামেনি।

ইউ চীনের হেবেই প্রদেশের বাওডিং শহরে থাকে। শহরটি রাজধানী বেইজিং থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চীনের বেশির ভাগ সেরা সাঁতারু দেশের আরও দক্ষিণের অঞ্চলগুলো থেকে আসেন।

ছয় বছর বয়সে ইউ সাঁতার কাটা শুরু করে। একজন স্থানীয় কোচ থেকে সে শিখেছে সাঁতার। চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাঁতারে মন দেওয়ার জন্য তাকে পিয়ানো ও নাচের ক্লাস ছেড়ে দিতে হয়। এশিয়ান গেমসের সাঁতার দেখার জন্য তার মা লিউ হুই এবং বাবা ইউ তাও দুজনই মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছর চীনের একটি টিভি চ্যানেলে ইউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সে নিজেকে জন্মগত প্রতিভাবান মনে করে কি না। জবাবে সে জানায়, ‘আমি কোনো জন্মগত প্রতিভাবান নই, আমি শুধুই একজন পরিশ্রমী মানুষ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

১৩ বছরের সাঁতারুর এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জেতার হ্যাটট্রিক

আপডেট সময় : ০৮:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে তিনটি স্বর্ণ জিতে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে ১৩ বছর বয়সী চীনা মেয়ে সাঁতারু ইউ জিদি। সে ২০০ মিটার বাটারফ্লাই, ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ও ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি ইভেন্টে প্রথম হয়েছে। মেডলি সাঁতার হলো সাঁতারের এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে একজন সাঁতারু বা একটি দল নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করতে চারটি ভিন্ন সাঁতারের ধরন ব্যবহার করেন। নিজের সেরাটা দেখিয়ে সাঁতারের এই তিনটি কঠিন প্রতিযোগিতা জিতেছে সে।

চীনের এই কিশোরী শুরু থেকেই নিজের ছন্দে সাঁতার কেটে ৪ মিনিট ২৮.৫৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। ২০১৪ সালের পুরোনো রেকর্ডটি প্রায় ৪.৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেঙে দেয়। চলতি বছরে এটি বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম সময়। এ বছরে শুধু কানাডার বিশ্ব রেকর্ডধারী সামার ম্যাকিনটশই তার চেয়ে কম সময়ে এই সাঁতার শেষ করেছেন।

প্রতিযোগিতায় ইউ তারই দেশের কে ওয়েনক্সির চেয়ে ৩.৯৫ সেকেন্ড এগিয়ে থেকে প্রথম হয়। ওয়েনক্সি রৌপ্যপদক পায় এবং জাপানের মিও নারিটা ব্রোঞ্জ জেতে।

ইউ জিদির সাঁতার দেখে এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন দেশের সাঁতারুরা বেশ প্রশংসা করছেন। তাঁদের মতে, সাঁতারের এই নতুন প্রতিভা খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বমঞ্চ জয় করবে। ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অলিম্পিক খেলা হবে। সেখানে সে সেরা সাঁতারুদের একজন হতে পারে। অলিম্পিকে কানাডার তারকা সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। কারণ, সামারও ইউ জিদির মতো একই ইভেন্টগুলোতে সাঁতার কাটে।

একইভাবে ২০২৭ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপেও এই দুই তরুণ সাঁতারুর মুখোমুখি হওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। কানাডার সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশের বয়স এখন ২০ বছর। তিনি অলিম্পিকে তিনবার স্বর্ণ জিতেছেন। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে আটবার ও কমনওয়েলথ গেমসে দুবার স্বর্ণ পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাঁর।

ইউ জিদি যেসব ইভেন্টে সাঁতার কাটে, সেগুলোতে কানাডার তারকা সাঁতারু সামার ম্যাকিনটশই সেরা। সে মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই সাঁতারের বিশ্বমঞ্চে সাঁতার কাটছে। ইউ জিদির তিনটি মূল ইভেন্টেই তাঁর বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। এই তিন ইভেন্ট হলো ২০০ মিটার বাটারফ্লাই (২ মিনিট ১.৬৫ সেকেন্ড), ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি (২ মিনিট ৫.৭০ সেকেন্ড) এবং ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি (৪ মিনিট ২৩.৬৫ সেকেন্ড)।

তবে ইউ জিদি খুব দ্রুতই সেই বিশ্ব রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে সে ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলি সাঁতার শেষ করে মাত্র ২ মিনিট ৬.১০ সেকেন্ডে। অর্থাৎ এই ইভেন্টে সে ম্যাকিনটশের রেকর্ডের একেবারেই কাছাকাছি রয়েছে।

১২ বছর বয়সের হিসাব করলে দেখা যায়, ম্যাকিনটশ ওই বয়সে যা করেছিলেন, ইউ তাঁর চেয়ে অনেক দ্রুত সাঁতার কেটেছিল। ওই বয়সে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে ইউ প্রায় ১৫ সেকেন্ড এবং ২০০ মিটারে প্রায় ১২ সেকেন্ড দ্রুত সাঁতার শেষ করেছিল। ৫০ মিটারের পুলে ১২ থেকে ১৫ সেকেন্ডের সময় মানে প্রায় অর্ধেকটা পুলের ব্যবধান।

নিজের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ইউ জিদি হয়তো একটির পর একটি নতুন রেকর্ড গড়বে। সে অন্য দূরত্বের সাঁতারে অংশ নিলে সেখানেও রেকর্ড ভাঙতে পারে। তবে সামার ম্যাকিনটশ বা অন্য প্রতিযোগীরা তাঁকে সহজে ছেড়ে দেবেন না।

মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন ইউ। ওই ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার বয়সেই সে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়। সেখানে তার তিনটি সাঁতারেই খুব অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয় এবং সে ৪ নম্বরে থেকে শেষ করে। তবে একটি রিলে ইভেন্টে ব্রোঞ্জপদক জিতেছিল তার দল। যদিও ফাইনালে সে নিজে নামেনি।

ইউ চীনের হেবেই প্রদেশের বাওডিং শহরে থাকে। শহরটি রাজধানী বেইজিং থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চীনের বেশির ভাগ সেরা সাঁতারু দেশের আরও দক্ষিণের অঞ্চলগুলো থেকে আসেন।

ছয় বছর বয়সে ইউ সাঁতার কাটা শুরু করে। একজন স্থানীয় কোচ থেকে সে শিখেছে সাঁতার। চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাঁতারে মন দেওয়ার জন্য তাকে পিয়ানো ও নাচের ক্লাস ছেড়ে দিতে হয়। এশিয়ান গেমসের সাঁতার দেখার জন্য তার মা লিউ হুই এবং বাবা ইউ তাও দুজনই মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছর চীনের একটি টিভি চ্যানেলে ইউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সে নিজেকে জন্মগত প্রতিভাবান মনে করে কি না। জবাবে সে জানায়, ‘আমি কোনো জন্মগত প্রতিভাবান নই, আমি শুধুই একজন পরিশ্রমী মানুষ।’