ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরের পর উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, দুপুরে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্যাকেটজাত দুধ পান করার কিছুক্ষণ পরেই মনির হোসেন নামের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের পেটব্যথা, মাথা ঘোরাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর পরপর আরও তিন–চারজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা, মাথা ঘোরা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যার পর অভিভাবকেরা আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তারা কিছুটা সুস্থ থাকায় ভর্তি না করেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের দুধ দেওয়ার পর তারা দুধ মুখে দিয়ে তিতা লাগছে বলে জানায়। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অবহিত করি। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে দেখেন এবং ভালো আছে বলে হেড স্যারকেও খেতে দেন। তাঁর কথাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা হয়। খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে।’

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বেলা তিনটার দিকে প্রথমে মনির হোসেন নামের একজন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা ভালো। সন্ধ্যার পর আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে অভিভাবকেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যে দুধ পান করে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেটির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

আপডেট সময় : ১২:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরের পর উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, দুপুরে বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্যাকেটজাত দুধ পান করার কিছুক্ষণ পরেই মনির হোসেন নামের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের পেটব্যথা, মাথা ঘোরাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর পরপর আরও তিন–চারজন শিক্ষার্থী পেটব্যথা, মাথা ঘোরা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যার পর অভিভাবকেরা আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তারা কিছুটা সুস্থ থাকায় ভর্তি না করেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের দুধ দেওয়ার পর তারা দুধ মুখে দিয়ে তিতা লাগছে বলে জানায়। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অবহিত করি। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে দেখেন এবং ভালো আছে বলে হেড স্যারকেও খেতে দেন। তাঁর কথাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা হয়। খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে।’

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান বলেন, বেলা তিনটার দিকে প্রথমে মনির হোসেন নামের একজন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা ভালো। সন্ধ্যার পর আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে অভিভাবকেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যে দুধ পান করে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেটির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।