ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনের পরও রক্ষা হলো না স্কুল, তিস্তারগর্ভে যাচ্ছে ‘ভোরের পাখি’

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ কয়েকদিন আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশার প্রতিফলন না ঘটায় এখন নদীভাঙনের হাত থেকে বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীভাঙনে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ই আগষ্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে। এখন নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নতুন করে যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তারা। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নিলে আজকে এ করুন দৃশ্য দেখতে হতো না আমাদের। এর দায় তারা কেউই এড়াতে পারবেন না।’

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও ক্লাস হয়েছে স্কুলে। ভোরে শুনলাম এ অবস্থা। সাথে সাথে এটিও স্যারকে জানাই। উনি এসেছেন। পরামর্শ করে ১৪ জন লেবার লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। এরপরও একটি ব্যাড়া ও ৩ টি জানালা নদীতে চলে গেছে এ পর্যন্ত।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। খালি আশ্বাস পেয়েছি। একটা জিও ব্যাগও এ স্কুলের এরিয়ায় ফেলেননি তারা। ফেললে হয়তোবা আজকে এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হতো না।’

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মনের সাথে। ঘটনাস্থল থেকে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙ্গন শুরু থেকে যখন যা হয়েছে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সে কারণে আজকে এ ভয়াবহ অবস্থা।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনেছি। প্রতিষ্ঠানটি অন্যস্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশও দিয়েছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে কারো কোনো হাত নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফলতি আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্কুল এলাকায় কোনো জিও ব্যাগ ফেলানো হয়নি এটা ঠিক। তবে, গত বছরে ওই স্কুলের আপ এবং ডাউনে কিছু জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছিলো। ওই স্কুল রক্ষায় এবারে কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়নি বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনের পরও রক্ষা হলো না স্কুল, তিস্তারগর্ভে যাচ্ছে ‘ভোরের পাখি’

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ কয়েকদিন আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশার প্রতিফলন না ঘটায় এখন নদীভাঙনের হাত থেকে বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীভাঙনে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৮ই আগষ্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে। এখন নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নতুন করে যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তারা। বিশেষ করে চরবাসীর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নিলে আজকে এ করুন দৃশ্য দেখতে হতো না আমাদের। এর দায় তারা কেউই এড়াতে পারবেন না।’

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালও ক্লাস হয়েছে স্কুলে। ভোরে শুনলাম এ অবস্থা। সাথে সাথে এটিও স্যারকে জানাই। উনি এসেছেন। পরামর্শ করে ১৪ জন লেবার লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। এরপরও একটি ব্যাড়া ও ৩ টি জানালা নদীতে চলে গেছে এ পর্যন্ত।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। খালি আশ্বাস পেয়েছি। একটা জিও ব্যাগও এ স্কুলের এরিয়ায় ফেলেননি তারা। ফেললে হয়তোবা আজকে এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হতো না।’

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মনের সাথে। ঘটনাস্থল থেকে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙ্গন শুরু থেকে যখন যা হয়েছে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সে কারণে আজকে এ ভয়াবহ অবস্থা।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনেছি। প্রতিষ্ঠানটি অন্যস্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশও দিয়েছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে কারো কোনো হাত নেই। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফলতি আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্কুল এলাকায় কোনো জিও ব্যাগ ফেলানো হয়নি এটা ঠিক। তবে, গত বছরে ওই স্কুলের আপ এবং ডাউনে কিছু জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছিলো। ওই স্কুল রক্ষায় এবারে কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়নি বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।