ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতকর্মীর ৪৮ দিন পর মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাঘাটায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত সালাহ উদ্দিন মারা গেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত সালাহ উদ্দিনের বাবা মাওলানা শামসুল ইসলাম দুদু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ১ মাস ১৮ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

নিহত সালাহ উদ্দিন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন। বাড়ি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকায়।

এরআগে গত ২১ জুন সাঘাটার উপজেলা চত্বরের চারমাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন একই ঘটনায় ঘটনাস্থলে খুন হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪)।

সাইফুল্লাহ বারী ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

গত ১৬ জুন উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার জের ধরে ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ আরো বেশ কয়েকজন। সেদিন কমিটি নিয়ে ইস্যু তুলে প্রধান শিক্ষককে আক্রমণাত্মকভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন মুকুলসহ তার সঙ্গীরা। পরে শিক্ষক হাবীবুল্লাহর ফোনের ডাকে তার ভাতিজা মোবাশ্বের, সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহ উদ্দিনসহ অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত লোকজন উভয়পক্ষকে নিবৃত করে তাৎক্ষনিকভাবে দুই দিকে সরিয়ে দেন। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহদের ওপর হামলা চালায়। মুকুলের ছোট ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় স্বজোরে আঘাত করলে শাবল গলার এফোর-ওফোর হয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, একই সময়ে গুরতর আহত জামায়াত কর্মী সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় এবং পরে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

পরে ঘটনার পরদিন ২২ জুন রাতে নামীয় ৬ নামীয় ও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞানামাসহ ২১ জনকে আসামি করে মামলা সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান। এ মামলায় তিনজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে, সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে জেলা জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে গত ২১ জুন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফের হামলায় সালাহউদ্দিন ও সাইফুল্লাহ আহত হন। ওই ঘটনায় সাইফুল্লাহ নিহত হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সালাহউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।

এই নৃশংস হামলা ও হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা আমীর, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা নায়েবে আমীর ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কাওসার মো. নজরুল ইসলাম লেবু, ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র প্রার্থী মো. ফয়সাল কবির রানাসহ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতকর্মীর ৪৮ দিন পর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত সালাহ উদ্দিন মারা গেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত সালাহ উদ্দিনের বাবা মাওলানা শামসুল ইসলাম দুদু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ১ মাস ১৮ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

নিহত সালাহ উদ্দিন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী ছিলেন। বাড়ি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকায়।

এরআগে গত ২১ জুন সাঘাটার উপজেলা চত্বরের চারমাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন একই ঘটনায় ঘটনাস্থলে খুন হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪)।

সাইফুল্লাহ বারী ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

গত ১৬ জুন উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পরে সেই ঘটনার জের ধরে ২১ জুন উপজেলার বোনারপাড়ায় শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ আরো বেশ কয়েকজন। সেদিন কমিটি নিয়ে ইস্যু তুলে প্রধান শিক্ষককে আক্রমণাত্মকভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন মুকুলসহ তার সঙ্গীরা। পরে শিক্ষক হাবীবুল্লাহর ফোনের ডাকে তার ভাতিজা মোবাশ্বের, সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহ উদ্দিনসহ অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত লোকজন উভয়পক্ষকে নিবৃত করে তাৎক্ষনিকভাবে দুই দিকে সরিয়ে দেন। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহদের ওপর হামলা চালায়। মুকুলের ছোট ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর গলায় স্বজোরে আঘাত করলে শাবল গলার এফোর-ওফোর হয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একই সময় সাইফুল্লাহ বারীর বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন প্রতিপক্ষরা। পরে স্বজনরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, একই সময়ে গুরতর আহত জামায়াত কর্মী সালাহ উদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় এবং পরে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

পরে ঘটনার পরদিন ২২ জুন রাতে নামীয় ৬ নামীয় ও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞানামাসহ ২১ জনকে আসামি করে মামলা সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান। এ মামলায় তিনজন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে, সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে জেলা জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে গত ২১ জুন বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোকলেছুর রহমান মুকুল, পলাশ ও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফের হামলায় সালাহউদ্দিন ও সাইফুল্লাহ আহত হন। ওই ঘটনায় সাইফুল্লাহ নিহত হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সালাহউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।

এই নৃশংস হামলা ও হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা আমীর, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা নায়েবে আমীর ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কাওসার মো. নজরুল ইসলাম লেবু, ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র প্রার্থী মো. ফয়সাল কবির রানাসহ জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান তারা।