ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবার সুন্দরগঞ্জে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ পরীক্ষার আগে কেন্দ্র বদল, ৪০ কিলোমিটার যাতায়াতের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা অক্টোবরে হামলা-হয়রানির শিকার ২৮ সংবাদকর্মী, প্রাণ গেছে একজনের: বিএজির প্রতিবেদন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত দি পল-সেলসোরা নেই, মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার প্রথম দলে কারা আছেন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কমার্স ব্যাংকের দুই পরিচালকের পদত্যাগ, প্রিমিয়ারে নতুন তিন পরিচালক ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ

শীতে বাড়ছে নিউমোনিয়া, শিশুদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীত মৌসুম শুরু হতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজধানীর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। হাসপাতালের এক করুণ দৃশ্য হলো মাত্র এক বছর বয়সী নুনইয়ার মৃত্যু। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে শিশুটি কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে শরীর নীলচে হয়ে গেলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল সে।

একই দিনে মিরপুর কচুক্ষেত থেকে দেড় বছরের সাবিতকে নিয়ে এসেছেন তার মা। কয়েক দিন ধরে ঠান্ডা ও জ্বর, সঙ্গে থেমে থেমে কাশি। আবার আমিনবাজার থেকে চার মাসের শিশু রুফাইদাকেও হাসপাতালে আনেন তার মা। তিনি বলেন, ‘এই শীতে বাচ্চাদের ঠান্ডা আর যায় না। কীভাবে সামলাবো বুঝতে পারছি না।’

হেমায়েতপুর থেকে আসা ১৩ মাস বয়সী হুযাইফার বাবা জানান, গ্যাস্ট্রিক না অন্য কোনো সমস্যা, চিকিৎসক দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এ রকম অসংখ্য শিশুকে নিয়ে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে চিকিৎসকের সিরিয়ালে।

শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি বহির্বিভাগে মোট ২৪৮ জন শিশু রোগী এসেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ঠান্ডায় আক্রান্ত ছিল ৯৮ জন এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৭ জন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫ শিশুকে ওই দিন ভর্তি করতে হয় এবং মারা যায় ৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৭ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে।

রোগতত্ত্ব বিভাগের চিকিৎসক কিংকর ঘোষ জানান, গত এক বছরের মধ্যে চলতি ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু ডিসেম্বর মাসেই ৩২১ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের কারণে বর্তমানে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং ঠান্ডা-কাশির রোগী দ্রুত বাড়ছে। তিনি শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষের ক্ষেত্রেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকদের মতে, শীতের এ সময়ে শিশুদের উষ্ণ রাখা, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সামান্য অবহেলাই শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শীতে বাড়ছে নিউমোনিয়া, শিশুদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ

আপডেট সময় : ০৩:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

শীত মৌসুম শুরু হতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজধানীর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। হাসপাতালের এক করুণ দৃশ্য হলো মাত্র এক বছর বয়সী নুনইয়ার মৃত্যু। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে শিশুটি কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে শরীর নীলচে হয়ে গেলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল সে।

একই দিনে মিরপুর কচুক্ষেত থেকে দেড় বছরের সাবিতকে নিয়ে এসেছেন তার মা। কয়েক দিন ধরে ঠান্ডা ও জ্বর, সঙ্গে থেমে থেমে কাশি। আবার আমিনবাজার থেকে চার মাসের শিশু রুফাইদাকেও হাসপাতালে আনেন তার মা। তিনি বলেন, ‘এই শীতে বাচ্চাদের ঠান্ডা আর যায় না। কীভাবে সামলাবো বুঝতে পারছি না।’

হেমায়েতপুর থেকে আসা ১৩ মাস বয়সী হুযাইফার বাবা জানান, গ্যাস্ট্রিক না অন্য কোনো সমস্যা, চিকিৎসক দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এ রকম অসংখ্য শিশুকে নিয়ে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে চিকিৎসকের সিরিয়ালে।

শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি বহির্বিভাগে মোট ২৪৮ জন শিশু রোগী এসেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ঠান্ডায় আক্রান্ত ছিল ৯৮ জন এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৭ জন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫ শিশুকে ওই দিন ভর্তি করতে হয় এবং মারা যায় ৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৭ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে।

রোগতত্ত্ব বিভাগের চিকিৎসক কিংকর ঘোষ জানান, গত এক বছরের মধ্যে চলতি ডিসেম্বর মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু ডিসেম্বর মাসেই ৩২১ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের কারণে বর্তমানে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং ঠান্ডা-কাশির রোগী দ্রুত বাড়ছে। তিনি শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষের ক্ষেত্রেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকদের মতে, শীতের এ সময়ে শিশুদের উষ্ণ রাখা, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সামান্য অবহেলাই শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।