ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৩য় দিনে ৪ শতাধিক কারখানায় ছুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের

পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে ভাসছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। জেলার আটটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি ও মৎস্য খামার। দুর্গতদের জন্য জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির নয়টি ইউনিয়ন আংশিক জলাবদ্ধতার কবলে, এছাড়া হাটহাজারী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, মীরসরাই ও বোয়ালখালীর ব্যাপক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি ও মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ডলু নদীর সেতুর কাছে সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাড়ছে ধসের আশঙ্কা।

বাঁশখালীতে অন্তত ২০টি ছড়া-খাল দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, খানখানাবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। খানখানাবাদে বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে, বেড়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কাও। নাপোড়া শেখেরখীলে সড়ক ভেঙে কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে, আর তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির।

চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত ও মৎস্য প্রকল্প তলিয়ে গেছে। মীরসরাইয়ে পাঁচ শতাধিক বসতঘর পানিবন্দি, রোপা আউশসহ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফটিকছড়িতে হালদা নদী, ধুরুং খাল, সর্তা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, বিবিরহাট বাজার সংলগ্ন ধুরুং খালের বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

রাউজানে পাহাড়ি ঢলের চাপে ডাবুয়া খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে ডাবুয়া, চিকদাইর, কদলপুর, পাহাড়তলীসহ সাতটির বেশি এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কাপ্তাই সড়কের একাংশ তলিয়ে গেছে এবং বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমি ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, গুড় ও স্যালাইনসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে ভাসছে চট্টগ্রাম

আপডেট সময় : ০২:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। জেলার আটটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি ও মৎস্য খামার। দুর্গতদের জন্য জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির নয়টি ইউনিয়ন আংশিক জলাবদ্ধতার কবলে, এছাড়া হাটহাজারী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, মীরসরাই ও বোয়ালখালীর ব্যাপক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গ্রামীণ সড়ক, বসতবাড়ি ও মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ডলু নদীর সেতুর কাছে সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাড়ছে ধসের আশঙ্কা।

বাঁশখালীতে অন্তত ২০টি ছড়া-খাল দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল, খানখানাবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। খানখানাবাদে বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে, বেড়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কাও। নাপোড়া শেখেরখীলে সড়ক ভেঙে কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে, আর তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির।

চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত ও মৎস্য প্রকল্প তলিয়ে গেছে। মীরসরাইয়ে পাঁচ শতাধিক বসতঘর পানিবন্দি, রোপা আউশসহ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফটিকছড়িতে হালদা নদী, ধুরুং খাল, সর্তা খালের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, বিবিরহাট বাজার সংলগ্ন ধুরুং খালের বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

রাউজানে পাহাড়ি ঢলের চাপে ডাবুয়া খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে ডাবুয়া, চিকদাইর, কদলপুর, পাহাড়তলীসহ সাতটির বেশি এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কাপ্তাই সড়কের একাংশ তলিয়ে গেছে এবং বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমি ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, গুড় ও স্যালাইনসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।