ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছি, উল্টো আমার ওপরই হামলা করেছে’ টিএমজিবির সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত রায় ৫৫ বছরেও কনসার্টের জন্য স্থায়ী ভেন্যু নেই, এটা লজ্জার: হামিন আহমেদ এইচএসসিতে এমন ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে আবার দাম বাড়ল অগ্নিকাণ্ডে পুঁজি হারানো ব্যবসায়ীর পাশে রব্বানী, দিলেন ২ লাখ টাকা একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট তৈরি করছে ইলন মাস্কের নিউরালিংক, যে সুবিধা পাওয়া যাবে আলীবাবা থেকে বাংলাদেশি কোম্পানি স্টেপ ফুটওয়্যারের জুতা কিনতে পারবেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা

পাইকগাছায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ 

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার এক নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এসেছে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে প্রাক্কলন (সিডিউল) অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সিডিউলের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারের এমন কাজের ধরনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার টোল আনারের বাড়ি থেকে কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায়ের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক ১০৮ মিটার সিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজটি বরাদ্দের চুক্তি পায় ‘আখি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাব-ঠিকাদার হিসেবে ইউসুফ আলী সরদার নামের এক ব্যক্তি কাজটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন। গত ২৮ জুন সড়কটির ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মূলত কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি রাস্তায় ৪ ইঞ্চি পুরুত্ব (থিকনেস) ঢালাই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র আড়াই থেকে সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি; এমনকি কোনো কোনো অংশে মাত্র ২ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, ড্রেনের স্লাবের (ঢাকনা) ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে রডের খাঁচা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, তা লঙ্ঘন করে রড ছাড়াই স্রেফ বালু ও সিমেন্টের প্রলেপে স্লাব ঢালাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ১০টি অব্যবহৃত রডের খাঁচাও উদ্ধার করেন। এছাড়া নির্মাণকাজে লবণাক্ত বালু এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের পাশাপাশি সিমেন্টের পরিমাণ এতটাই কম ছিল যে, ঢালাইয়ের মাত্র দুই দিন পরেই তা হাত দিয়ে ভেঙে ফেলা যাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদ জানান, তিনি মূলত সাতক্ষীরা পৌরসভায় কর্মরত এবং পাইকগাছায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাই বিস্তারিত উপসহকারী ও কার্যসহকারী বলতে পারবেন। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী লিংকন জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। তবে কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায় নিজের দায় এড়াতে দাবি করেন, ঠিকাদার তার নির্দেশনা না মেনে জোর করে কাজ সম্পন্ন করেছেন।

সরকারি কাজের এই অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। গতকাল ১ জুলাই বিকাল ৪টায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পান ইউএনও।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জনস্বার্থে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনতিবিলম্বে পুরো ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ও ড্রেন ভেঙে সিডিউল মোতাবেক সম্পূর্ণ নতুন করে এবং মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পাইকগাছায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ 

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার এক নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এসেছে। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে প্রাক্কলন (সিডিউল) অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সিডিউলের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারের এমন কাজের ধরনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার টোল আনারের বাড়ি থেকে কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায়ের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক ১০৮ মিটার সিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজটি বরাদ্দের চুক্তি পায় ‘আখি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাব-ঠিকাদার হিসেবে ইউসুফ আলী সরদার নামের এক ব্যক্তি কাজটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন। গত ২৮ জুন সড়কটির ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মূলত কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি রাস্তায় ৪ ইঞ্চি পুরুত্ব (থিকনেস) ঢালাই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র আড়াই থেকে সর্বোচ্চ ৩ ইঞ্চি; এমনকি কোনো কোনো অংশে মাত্র ২ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, ড্রেনের স্লাবের (ঢাকনা) ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে রডের খাঁচা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, তা লঙ্ঘন করে রড ছাড়াই স্রেফ বালু ও সিমেন্টের প্রলেপে স্লাব ঢালাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ১০টি অব্যবহৃত রডের খাঁচাও উদ্ধার করেন। এছাড়া নির্মাণকাজে লবণাক্ত বালু এবং নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের পাশাপাশি সিমেন্টের পরিমাণ এতটাই কম ছিল যে, ঢালাইয়ের মাত্র দুই দিন পরেই তা হাত দিয়ে ভেঙে ফেলা যাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদ জানান, তিনি মূলত সাতক্ষীরা পৌরসভায় কর্মরত এবং পাইকগাছায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাই বিস্তারিত উপসহকারী ও কার্যসহকারী বলতে পারবেন। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী লিংকন জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। তবে কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায় নিজের দায় এড়াতে দাবি করেন, ঠিকাদার তার নির্দেশনা না মেনে জোর করে কাজ সম্পন্ন করেছেন।

সরকারি কাজের এই অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। গতকাল ১ জুলাই বিকাল ৪টায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পান ইউএনও।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জনস্বার্থে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনতিবিলম্বে পুরো ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ও ড্রেন ভেঙে সিডিউল মোতাবেক সম্পূর্ণ নতুন করে এবং মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।